


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ব্রুনেই কিং, রেড পালমা, রেড আইভরি, চিয়াং মাই ...। শব্দগুলো শুনে হয়তো ভাবছেন, এসব আবার কী! এসব আদতে আমেরিকা, জাপান, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের আমের নাম। এই প্রথম রাজ্যে নানা দেশের বিভিন্ন প্রজাতির আমের বাগান হতে চলেছে। পঞ্চাযেত দপ্তরের উদ্যোগে পুরুলিয়ার বলরামপুরে চার হেক্টর জমিতে হবে এই আম বাগান। ফলে হিমসাগর, ল্যাংড়ার পাশাপাশি এবার রাজ্যের বাসিন্দারা বাইরের দেশের সুস্বাদু আমের স্বাদও পরখ করতে পারবেন। তবে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। পঞ্চায়েত দপ্তরের অধিনস্থ পশ্চিমবঙ্গ কম্প্রিহেনসিভ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (সিএডিসি) পুরুলিয়া শাখার উদ্যোগে অন্তত ১০ ধরনের বিদেশি আমের চারা এনে রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের মিয়াজাকি আমের জন্য সবচেয়ে বেশি জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, সবেমাত্র চারাগাছ বসানো হয়েছে। ফল ধরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। জানা গিয়েছে, বিচ্ছিন্নভাবে কোনও কোনও জায়গায় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে এমন এক-দু’টি প্রজাতির আমের চাষ করেছেন। কিন্তু সরকারি প্রচেষ্টায় এর আগে এমন কাজ হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। সিএডিসি’র কর্তারা বলছেন, এখানকার আমের সঙ্গে নানা রকমের বিদেশি প্রজাতি চাষ করলে কৃষকদের ভালো আয় হবে এবং সাধারণ মানুষ ভিন্ন ধরনের স্বাদও পাবেন। যে আমগুলি এখানে চাষ করা হবে, সেগুলি পরিপূর্ণ হলে এক একটির ওজন কমপক্ষে ২০০ গ্রাম করে হবেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেমন এক পিস রেড আইভরি কিংবা চিয়াং মাই আম গড়ে ২০০-২৫০ গ্রাম ওজনের হয়। এই দুই রকমের আম বাইরে থেকে লাল রঙের। থাইল্যান্ডের থ্রি টেস্ট ম্যাঙ্গো একটু লম্বা ধাঁচের হয়। এই আম খেলে টক, মিষ্টি ও কিছুটা ঝাল স্বাদ অনুভূত হবে। এছাড়া এক-একটি কিউ যাই বা ব্রুনেই কিং আম দেড় কেজির বেশি ওজন হয়। এই দুই ধরনের আমই একটু লম্বাটে। কিন্তু এসব প্রজাতির আম কি রাজ্যের জল-হাওয়ায় ফলানো সম্ভব? সিএডিসি’র কর্তারা বলছেন, যে তাপমাত্রা বা পরিবেশে এই আম হয়, সেই পরিবেশ এখানে আছে। তাই কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।