


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাধারণ মানুষকে করের বোঝা থেকে কিছুটা রেহাই দিতে জিএসটির কাঠামো ঢেলে সাজতে চাইছে কেন্দ্র। আসন্ন জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা না থাকলেও, বিভিন্ন সূত্র বলছে, ১২ এবং ২৮ শতাংশ জিএসটির স্ল্যাব তুলে দেওয়া হতে পারে। সিদ্ধান্ত যাই-ই হোক না কেন, জিএসটি সংক্রান্ত আরও বেশি প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানাল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই)। তারা একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, জিএসটি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত তহবিলে ৫০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে। জিএসটির আসন্ন কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে রাজ্যগুলির যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে, ওই টাকা সেই ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। জিএসটি চালুর সময় রাজ্যগুলির যাতে রাজস্ব ক্ষতি না-হয়, তার জন্য পাঁচবছর ধরে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেইমতো রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ মেটানোর জন্য বাজার থেকে ঋণ নেয় কেন্দ্র। এসবিআই মনে করে, যে টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ বাকি আছে, তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যগুলিকে মিটিয়ে দেওয়া হোক। পাশাপাশি তাদের দাবি, কেন্দ্রের তহববিলে এখনও ৫০ হাজার কোটি টাকা থাকার কথা। সেই টাকাও মেটানো হোক রাজ্যগুলিকে। জিএসটি কর কাঠামোর পরিবর্তনের এই লগ্নে পেট্রলিয়াম ও বিদ্যুতের পাশাপাশি বিমানের জ্বালানিকেও জিএসটির আওতায় আনা হোক, দাবি এসবিআইয়ের।
জিএসটি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এখনও সরব হয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। সেই সংকট কাটাতে উদ্যোগ নেওয়া হোক, এমনই দাবি এসবিআইয়ের। তাদের বক্তব্য, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে আরও বেশি করে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হোক এবং গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তা নিশ্চিত করা হোক। জিএসটি সংক্রান্ত বিষয়ে দপ্তরের কর্মী ও অফিসারদের সরাসরি যোগ যতটা কমানো যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হোক, রিপোর্টে দাবি করেছে তারা। জিএসটি রিফান্ড সংক্রান্ত প্রক্রিয়াটিও আরও দ্রুততার সঙ্গে করার আর্জি তাদের। এসবিআই তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, যে সংস্থাগুলি কাঁচামাল কিনতে বেশি হারে জিএসটি প্রাদন করে এবং পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে জিএসটির হার কম, তাদের ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়। এই বিষয়টিও যাতে আরও সুষ্ঠুভাবে হয়, তার আর্জি জানানো হয়েছে রিপোর্টে।