


উমার ফারুক, হরিশ্চন্দ্রপুর; বাঙালির প্রাণে উৎসাহ, উদ্দীপনার সঞ্চার করে নববর্ষ। বছরের প্রথম দিন নানা অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে বাংলার গ্রাম থেকে শহর। শুধুমাত্র আনন্দ আর খাওয়াদাওয়া নয়, বাঙালি ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেন, ব্যবসার হিসেবপত্রও করা হয় পয়লা বৈশাখে। দোকানে দোকানে হালখাতা হয় নববর্ষের দিন। পুরনো বকেয়া মিটিয়ে পয়লা বৈশাখ থেকে ব্যবসার নতুন খাতার সূচনা করা হয়। এই উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আমন্ত্রণপত্র দিয়ে দোকানে হালখাতার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণপত্রে ক্রেতার বকেয়া টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। হালখাতার অনুষ্ঠানে ক্রেতা উপস্থিত হন বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে। দোকানদার ক্রেতাকে মিষ্টি মুখ করান। ব্যবসায়ীরা মিষ্টির প্যাকেট ও বাংলা নতুন বছরের ক্যালেন্ডার দিয়ে ক্রেতাকে শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইন লেনদেনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় হালখাতার অনুষ্ঠান জৌলুস হারিয়েছে।
আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে মালদহের চাঁচল মহকুমার ব্যবসাতেও। মহকুমার গ্রামেগঞ্জের দোকানে পয়লা বৈশাখে হালখাতার ব্যবহার কমেছে। এই এলাকায় বছরের প্রথমে নতুন খাতা তৈরি হতো। কিন্তু সেই চল উঠে যাচ্ছে। বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবসার হিসেব রাখা হচ্ছে। তাই ঘটা করে আর হালখাতার অনুষ্ঠান পয়লা বৈশাখে দেখা যাচ্ছে না।
রতুয়া-১ ব্লকের সামসির ওষুধ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, আগের ব্যবসার সঙ্গে এখন বিস্তর ফারাক। আগে পয়লা বৈশাখে ধারের টাকা তোলার জন্য হালখাতার অনুষ্ঠান করতে হতো। কিন্তু এখন অনলাইন লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩১ মার্চ আর্থিক বছর শেষ হচ্ছে। ফলে হালখাতার অনুষ্ঠান গুরুত্ব হারিয়েছে।
চাঁচল ব্যবসায়ী সমিতির চেয়ারপার্সন প্রাণগোপাল পোদ্দারের কথায়, এলাকায় বাংলা নববর্ষে হালখাতার অনুষ্ঠান আগের থেকে কমেছে।