


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দেশের দুর্নীতি দমনে ‘প্রাণপাত করা’ এক আধিকারিকের বিরুদ্ধেই বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ! রীতিমতো হুকিং করে বিশাল বাড়িতে পাম্প, একাধিক ঘরে এসি, আর সঙ্গে টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন তো আছেই। রাজ্য বিদ্যুৎবণ্টন সংস্থার অভিযানে এহেন ইডি অফিসারেরই পর্দা ফাঁস হল। জরিমানা বাবদ ৫ লক্ষ টাকা মেটাতে হয়েছে বিদ্যুৎ মিটারের মালিককে। তাতে অবশ্য বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদর এলাকার ঘটনাটি চাপা থাকেনি। জানাজানি হয়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। সরব হয় তৃণমূল, কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপিও। সবার একটাই বক্তব্য—‘দেশজুড়ে আর্থিক দুর্নীতি রোখার ভার যাদের হাতে, সেই তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকের বাড়িতে বিদ্যুৎ চুরি অত্যন্ত নিন্দনীয়।’
সম্প্রতি বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তার দক্ষিণ দামোদরের বাড়িতে অভিযান চালান। বাড়িতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, কেবল কেটে হুকিং করা হয়েছে। ওই আধিকারিক অবশ্য তখন বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর বাবা ছিলেন। বাবার নামেই বিদ্যুতের সংযোগ। সবকিছু খতিয়ে দেখে জরিমানা করা হয় ৫ লক্ষ টাকা। বিদ্যুৎ দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, জরিমানা করার পর সমস্যা তৈরি হয়। ওই আধিকারিক তাঁদের ফোন করেন। তিনি বিষয়টি থানায় জানিয়ে দিতে বলেন... যাতে পুলিস তাঁর বাড়িতে কোনওভাবেই না যায়।
জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিক গ্রামে আরও একটি বড় বাড়ি করছেন। সেখানেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। তবে বর্ধমানের বাড়িতে ফিরলে পুরনো বাড়িতেই ওঠেন। সেটা তাঁর মা নিশ্চিত করেছেন। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল কেটেই ওই আধিকারিকের বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল। নিয়ম মতো এক বছরের বিদ্যুৎ বিল ধরে জরিমানা করা হয়েছে। পুরো তল্লাশি প্রক্রিয়া ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। ওই আধিকারিকের বাড়ির চারদিকে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা এভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকের বাড়িতে অভিযান চালাতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিদ্যুৎ দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সব কিছুই ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে। অনৈতিক কোনও কিছু হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের পূর্ব বর্ধমান জেলার রিজিওন্যাল ম্যানেজার গৌতম দত্ত বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ীই জরিমানা করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। কারও পরিচয় দেখে জরিমানা করা হয় না। তবে কোনও আধিকারিকের বাড়িতে এভাবে বিদ্যুৎ চুরি হলে সেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক!’
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘এরা কীভাবে তদন্ত করে, সেটা এবার বোঝা যাচ্ছে! নিজেদের বাড়ির লোকজনই বিদ্যুৎ চুরি করছেন। আমাদের কাছে খবর রয়েছে, চুরি ধরা পড়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের উপর বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি চেষ্টা হয়েছিল। তদন্তকারী অফিসারদের সৎ হওয়া দরকার। অথচ, তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে! এটা অকল্পনীয়।’ কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, ‘তদন্তকারী আধিকারিকরা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে পুরো সিস্টেমটাই ভেঙে পড়ে। তিনি যে তদন্তকারী সংস্থার হয়ে কাজ করেন, তাদের উচিত গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা।’ বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করেন বলে তিনি চুরির ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন, সেটা হয় না।’