


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেডিকেল কলেজগুলি থেকে প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র—রাজ্যের সমস্ত শয্যাযুক্ত সরকারি হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অবিলম্বে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল স্বাস্থ্যভবন। ১০ নভেম্বরের মধ্যে এই ফায়ার অডিট সেরে ফেলতে হবে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে। ২১ নভেম্বরের মধ্যে পাঠিয়ে দিতে হবে বিস্তারিত রিপোর্ট। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম সব মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ-সুপার তথা উপাধ্যক্ষ এবং প্রত্যেক জেলা-স্বাস্থ্যজেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এক নির্দেশনামায় এই বার্তা দিয়েছেন। শনিবার নবান্নে রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময় জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দেওয়া সরকারি হাসপাতালগুলির ফায়ার অডিটে উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়েছে। কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের রিপোর্টে জেলার হাসপাতালগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ভয়ংকর দশা ধরা পড়েছিল কয়েকমাস আগে।
দেখা যাক, কী আছে স্বাস্থ্যসচিবের সেই অভ্যন্তরীণ বার্তায়? সচিব জানিয়েছেন, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ‘ফায়ার সেফটি কমিটি’ ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এবার সেই কমিটিকে পুরোদমে কাজে লাগাতে হবে। প্রধান তিনটি কাজ সেই কমিটিকে করতে হবে। প্রথমত, দমকলের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতি ১৫ দিন অন্তর হাসপাতালে পরিদর্শন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে। তৃতীয়ত, হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে আগুন লাগলে মোকাবিলার ব্যবস্থাগুলি ঠিকঠাক আছে কি না যাচাই করে দেখতে হবে।
এছাড়া অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা সিএমওএইচদের ৮টি বিষয়ে জোর দিতে বলা হয়েছে নির্দেশে। যেমন, হাসপাতালের স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করতে নিয়ম করে ফায়ার ড্রিল করতে হবে। ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটগুলি ঠিক আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় দাহ্য পদার্থগুলিকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং ব্যবস্থাগুলি চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে হবে কর্মীদের। স্মোক অ্যালার্ম, স্প্রিঙ্কলার, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগুন লাগলে রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী, সাক্ষাৎপ্রার্থীদের নিরাপদে বের করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। আগুন লাগলে পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো হবে, তার নিয়মিত মহড়া চালিয়ে যেতে হবে। আগুন নেভাতে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থা বসানোর কাজ সেরে ফেলতে হবে।