


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা আছে। তার মধ্যে ৩৪টি জেলাতেই নিপা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত। ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ইতিহাস অন্তত তাই বলছে। এই ৩৪টি জেলার মধ্যে বাংলাদেশের এক ডজনের বেশি জেলার সীমানা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। সীমানার এপারে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ৯টি জেলা। দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার। ভাষা, খাওয়াদাওয়া, রীতিনীতিতে দু’পারের মধ্যে মিল থাকাটাই স্বাভাবিক। অথচ ওপারে নিপা সংক্রমণে মৃত্যু হলেও এপারের জনসংখ্যায় নিপা পরীক্ষাই হয়নি এতদিন। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যসচিব এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের ভর্ৎসনা পর্যন্ত করেছেন। এদিকে, রাজ্যের সর্বত্র বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিপা পরীক্ষা অবিলম্বে শুরু করার জন্য অনুরোধ করেছে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ যোগিরাজ রায়।
দপ্তর সূত্রের খবর, বাধ সেধেছে দু’টি বিষয়। প্রথমত, নিপা কিট। দ্বিতীয়ত, নিপা পরীক্ষার জন্য বায়ো সেফটি-৩ পর্যায়ের গবেষণাগারের অভাব। সেগুলিকে স্রেফ যুক্তি বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষমহল। কারণ, এনআইভি’র কাছে কিট চাইলে তারা দেবে না এমনটি হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া রাজ্য প্রয়োজনে কিট কিনেও নিতে পারত। স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে কোনও বিএসএল-৩ ল্যাব না থাকলেও সেই জাতীয় প্রথম সারির ল্যাব রয়েছে প্রাণী এবং মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে চাইলে সেখানে রুটিনমাফিক পরীক্ষা হতে পারত। এদিকে মৃদু উপসর্গ থাকায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এক হাউজস্টাফকে বুধবার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের নিপা ওয়ার্ডে ভরতি করা হয়েছে। তাঁর জ্বর ও হাঁচি-কাশি রয়েছে। আক্রান্ত কোমাচ্ছন্ন নার্সকে ভেন্টিলেশনে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই হাউসস্টাফ। এদিন পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির একটি ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার আইডি হাসপাতালের নাইসেড ভবনে আসে। সেখানে যতগুলি পরীক্ষা হয়েছে, তার মধ্যে ১৬টি পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। সবক’টিই নেগেটিভ। এদিন আশার খবর হল, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভরতি তরুণ পুরুষ নার্স চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন। যদিও ওই নার্সের অবস্থা একই রকম।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় জানা গিয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চারটি নিপা পজিটিভ কেস হয়েছে। সেগুলি হয়েছে যথাক্রমে পাবনা, ভোলা, ফরিদপুর এবং নওগাঁওয়ে। অবশ্য কিছুদিনের মধ্যে চারজনেরই মৃত্যু হয়। তার মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার ইতিহাস ছিল।