


সৌমজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ডেঙ্গু মোকাবিলায় এবার কোমর বেঁধে নামছে স্বাস্থ্য ও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। প্রতিটি পুরসভার সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে এবার একেবারে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মূলত পাড়ায় পাড়ায় মশার লার্ভা মারার জন্য যে রাসায়নিক বা লারভিসাইড স্প্রে করা হয় সেটা নিয়েই বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই রাসায়নিক তৈরি ও ব্যবহার করার জন্য জলের সঙ্গে কতটা পাউডার ও অন্যান্য সামগ্রী কী অনুপাতে মেশাতে হবে, সেসবই শেখানো হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। শুধু তাই নয় স্প্রে করার ক্ষেত্রেও কীভাবে সেটা কার্যকরী করতে হবে এই বিষয়টি নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারণ বিগত বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে যে, এই রাসায়নিক ব্যবহার থেকে স্প্রে করা সঠিকভাবে করতেন না অনেকেই।
স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বা সুডা এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। তারাই বিভিন্ন জেলায় পুরসভার স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে বৈঠক, আলোচনা এবং এই কাজ কীভাবে করবেন তা হাতে ধরে শেখানো হচ্ছে। এছাড়াও সম্প্রতি মুখ্যসচিব সমস্ত জেলার সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ে বৈঠকেও একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন যা এবার জেলায় জেলায় কার্যকর করা হবে। জানা গিয়েছে, ডেঙ্গুর মশা লার্ভা মারতে খালে বা ড্রেনে গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়। কিন্তু পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে আধিকারিকরা দেখেছেন যে, অনেক জায়গাতেই সঠিক পরিবেশে এবং পরিস্থিতিতে এই মাছ ছাড়া হয় না। যার ফলে কয়েকদিন যেতে না যেতেই সেই মাছ মরে যায় এবং যে উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের ছাড়া হয় সেটাও পূরণ হয় না। তাই এবারে এই মাছ ছাড়ার পদ্ধতিতেও নজরদারি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নবান্ন থেকে। এক আধিকারিক বলেন, যেখানে এই মাছ ছাড়া হবে সেখানটা পরিষ্কার করে তারপরে সেই কাজ করতে হবে। না হলে ওই মাছ বেশি দিন বাঁচবে না। এবারে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের উপর এত জোর দেওয়া হচ্ছে কেন? চিকিৎসকমহলের দাবি, গত বছর রাজ্য জুড়েই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। তাই এবার ধরে নেওয়া হচ্ছে, এই সংখ্যা বাড়তে পারে। সে কারণেই আগাম প্রস্তুতি সেরে নেওয়া হচ্ছে। যতটা সম্ভব আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যায়, সেটাই মূল উদ্দেশ্য।