


নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল: দেশের প্রতিরক্ষায় নতুন পালক। ভারতীয় নেভিতে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত পারমাণবিক সাবমেরিন আইএনএস অরিদমন। আজ, শুক্রবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। লেখেন, এটি শুধু নাম নয় , এটি শক্তি- অরিদমন। ইতিমধ্যেই আইএনএস অরিধমনের লাস্ট স্টেজের সি ট্রায়াল শেষ হয়েছে। ফলে মনে করা হচ্ছে, আজই প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পারমাণবিক সাবমেরিনটিকে নৌসেনার হাতে তুলে দিতে পারেন। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে অরিদমন।
এই সাবমেরিনটি বেশ কিছুটা বড়, আইএনএস অরিহন্তের তুলনায় দ্বিগুণ। প্রায় ৭,০০০ টন ওজনের। এটি গোপনভাবে কোনওরকম শব্দ না করেই চলাচল করতে সক্ষম। ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টারের তৈরি ৮৩ মেগাওয়াটের প্রেসারাইজড ওয়াটার রিয়্যাক্টর রয়েছে এতে। রয়েছে ৮টি ভার্টিক্যাল লঞ্চ টিউব। ফলে প্রায় ৩,৫০০ কিমি পাল্লার ৮টি কে-৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল বহন করতে সক্ষম। পাশাপাশি প্রায় ৭৫০ কিমি পাল্লার ২৪টি কে-১৫ মিসাইলও বহন করতে সক্ষম এই সাবমেরিন। এর গঠন এমনভাবে তৈরি যাতে রাডারে সহজে ধরা না পড়ে। ফলে শত্রুর চোখ এড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় এটি থাকতে পারবে। এছাড়া জলপথের পাশাপাশি আকাশপথে হামলা হলেও জলের গভীরে থাকা এই সাবমেরিন পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম। এই সকল অভিনব ক্ষমতা সমুদ্রে ভারতের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে ভারত-পাক যুদ্ধের পরই জলপথে ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল ভারত। সেইমতো শুরু হয় জলপথে সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও। এরপর ২০১৬ সালে আইএনএস অরিহন্ত এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আইএনএস অরিঘাত নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। সেই তালিকায় এবার তৃতীয় সংযোজন হল অরিদমন।