


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিগোর বিমান বাতিলের জেরে টানা কয়েকদিন ধরে চরম দুর্ভোগ চলছে হাজার হাজার যাত্রীর। তাঁদের বেনজির হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন নিয়ে কেন্দ্রের দিকেই আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাত্রীস্বার্থে বিকল্প এবং যথাযথ ব্যবস্থা কেন্দ্রেরই নেওয়া দরকার ছিল বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবারও কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ইন্ডিগোর একাধিক বিমান বাতিল হয়েছে। দেরিতে চলেছে আরও কয়েকটি বিমান। বিমানবন্দরে ইন্ডিগো কাউন্টারের সামনে এদিনও যাত্রীদের ক্ষোভের ছবি ধরা পড়ে। ঘটনাচক্রে কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে এদিন উত্তরবঙ্গে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেইসময় ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে জানান তৃণমূলের শ্রমিক নেতা তথা দমদম পুরসভার উপপ্রধান বরুণ নট্ট। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে ইন্ডিগোর বিমান সমস্যার বিষয়ে খবর এসেছিল। আমাদের দলের কর্মী ইউনিয়নের তরফে বরুণ নট্টরা আমাকে বিস্তারিতভাবে জানালেন। ইন্ডিগোর বিমান সমস্যা নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটা ‘বিপর্যয়’। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইন্ডিগোর বিমান বিভ্রাটের জেরে যাত্রীদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। ব্যবসা, চিকিৎসা, পড়াশোনা সহ বিভিন্ন কাজে বিমানে অন্যত্র যাওয়ার কথা ছিল আমজনতার। কিন্তু বিমান বাতিলের জেরে তাঁদের হেনস্তা হতে হল। দুর্ভোগ চলছে সাতদিন যাবৎ। এই ঘটনায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। আর যাত্রীরাও সুবিচারের জন্য আদালতে যেতে পারেন।
ইন্ডিগোর বিমান বিভ্রাটের মওকায় টিকিটের দাম কয়েক হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে অন্যান্য বিমান সংস্থা। সামনে এসেছে এই অনৈতিক চিত্রও। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিন হাজারের টিকিট পৌঁছে গিয়েছে ৫০ হাজার টাকায়! সবটাই কেন্দ্রের পরিকল্পনার অভাব। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা হয়নি। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শুধু ভোট, নির্বাচন কমিশন আর এজেন্সির অপব্যবহার করতে ব্যস্ত। জনগণের সমস্যা নিয়ে তাদের কোনও চিন্তা নেই। বাইরের বিষয় নিয়েই ব্যস্ত তারা, দেশের ভিতরে মানুষের সমস্যার সুরাহা নিয়ে তারা ভাবছেই না।