


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রেলগেট লাগোয়া রাস্তায় পড়ে মাঝবয়সী ব্যক্তি। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। বুধবার রাতে পানিহাটির ছ’নম্বর রেলগেট লাগোয়া রামচন্দ্রপুরে এই দৃশ্য দেখে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। খুনের চেষ্টা নাকি দুর্ঘটনা তা নিয়ে তৈরি হয় কৌতূহল। পরে এলাকার কাউন্সিলার সহ স্থানীয়রা রাস্তায় রক্তের দাগ অনুসরণ করে রহস্যের কিনারা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি বাড়িতে মদের আসরে ঝামেলা থেকে প্রাথমিক ভাবে ওই ব্যক্তিকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মেঘনাদ কুণ্ডু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পানিহাটি পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছ’নম্বর রেল গেটটি আগরপাড়া স্টেশনের কাছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ওই রেলগেট লাগোয়া রামচন্দ্রপুরের রাস্তায় উপর এক মাঝবয়সী ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পাশে পড়ে ছিল একটি সাইকেল। রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে রক্তের স্রোত। এই দৃশ্য দেখে হকচকিয়ে যান পথচারীরা। ভিড় জমতে শুরু করে। খবর পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলারের স্বামী বাদল রায় ও পাশের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা শহর তৃণমূল সভাপতি সম্রাট চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের সক্রিয়তায় পুলিশ মৃতপ্রায় ওই ব্যক্তিকে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত রয়েছে। ডান হাত ভাঙা। তিনি কথা বলার পরিস্থিতিতেও নেই। পড়ে থাকা রক্ত দেখে কাউন্সিলাররা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন। পরে পুলিশও পৌঁছয় সেখানে। রক্তের দাগ ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে তারাপুকুর পশ্চিম পল্লির এক বাড়িতে পৌঁছন। ওই বাড়ির সামনেও রক্ত পড়েছিল। এরপর পুলিশ ওই বাড়ির মালিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সম্রাটবাবু বলেন, ‘আতঙ্কিত এলাকাবাসীর কথা শুনেই আমরা দৌড়ে গিয়েছিলাম। গুরুতর জখম ওই ব্যক্তিকে পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতাল পাঠিয়ে রক্ত ধরে আমরা এর উৎসে পৌঁছনোর চেষ্টা করছিলাম। আমরা চাই প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হোক।’