


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেল লাইন ‘ক্লিয়ার’ রয়েছে কি না, ট্রেন চালককে সেই ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়ার অধিকার রয়েছে স্টেশন মাস্টার (এসএম) অথবা সহকারী এসএমের। কিন্তু অনেকাংশেই সিগন্যাল মেন্টেনার কিংবা কোনো জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে ওই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে বলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট প্রোটোকল ভাঙা হচ্ছে। তেমনই অন্যদিকে প্রবলভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে রেল যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা। এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে রীতিমতো কড়া অবস্থান নিতে চলেছে রেল বোর্ড। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই সবক’টি জোনের জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি পাঠিয়েছে রেল বোর্ড।
চিঠিতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, কোনোমতেই যেন নিয়মের লঙ্ঘন না হয়। কারণ রেল যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। লাইন ক্লিয়ার থাকার সবুজ সংকেত এসএম কিংবা এএসএম দিচ্ছেন কি না, তা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সুনিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রেলওয়ে জোনগুলিকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়ম ভঙ্গ হলে অভিযুক্ত রেল কর্মী, আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। আধুনিক ব্যবস্থায় সাধারণত ‘হুইল সেন্সিং সিস্টেমে’ (রেলের পরিভাষায় এর পোশাকি নাম এক্সেল কাউন্টার) লাইন ক্লিয়ার থাকার সংকেত পান ট্রেনের চালক এবং সহকারী চালকরা। পাশাপাশি ‘লাস্ট ভেহিক্যাল বক্স’ যন্ত্রের মাধ্যমেও সেই সংকেত পাওয়া যায়। রেলওয়ে ট্র্যাকের খুব কাছে বসানো থাকে এই যন্ত্র। তবে প্রযুক্তির সাহায্য যতই নেওয়া হোক না কেন, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টারদের সবসময়ই সতর্ক ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনোরকম যান্ত্রিক গোলযোগে স্টেশন মাস্টারদের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই ভূমিকা পালন করতে গিয়েই নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। রেল বোর্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যে স্টেশনে এমন যান্ত্রিক গোলযোগ ঘটবে, তার এসএম অথবা সহকারী এসএমকেই এব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি দু’টো স্টেশনের মধ্যবর্তী কোনো অংশে এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে ওই দু’য়ের এসএম/এএসএম নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করবেন। এর অন্যথা হবে না।