


নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: এক-দুটি নয়, লুট করা হচ্ছে আটশো থেকে হাজার আইফোন। সেগুলি পাচার হয়ে যাচ্ছে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঘাঁটিগাড়া সাইবার জালিয়াতদের কাছে। বিভিন্ন রাজ্যে আইফোন লুটের মূল পান্ডা ইমরান ও তার শাগরেদ ভোরাকে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় নিয়ে এল সিআইডি। রীতিমতো টিম তৈরি করে এই অপরাধ করে বেড়াচ্ছিল হরিয়ানার বাসিন্দা যুবক ইমরান। তাকে জেরা করে বাংলায় কোথায় কোথায় নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে জানতে চান তদন্তকারীরা।
২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় লরি থেকে ১৫০০টি আইফোন লুট হয়। সাড়ে ৯ কোটি টাকা মূল্যের ওই আইফোন তামিলনাডু থেকে কলকাতায় ডিলারের কাছে আসছিল। অ্যাসম্বেলিং ইউনিট থেকে বেরনোর পর আইফোন ভর্তি লরির অবস্থান নজর রাখা হচ্ছিল জিপিএস ট্র্যাক করে। কিন্তু ডেবরায় দীর্ঘসময় লরিটি দাঁড়িয়ে থাকায় সন্দেহ হয় অ্যাসেম্বলিং ইউনিটের। সেখানকার কর্তারা এসে দেখেন লরিটির চালক ‘মিসিং’ এবং গাড়ি থেকে মোবাইলগুলিও উধাও হয়ে গিয়েছে! পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিস তদম্ত শুরু করলেও, পরে তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। মোবাইলের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় আটজনকে। তাদের জেরা করে জানা যায়, চক্রের মূল পান্ডা ইমরান। হরিয়ানার এই যুবকের খোঁজে বারবার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। চারদিন আগে ইমরান এবং তার এক শাগরেদ কর্ণাটকের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করে। সেই খবর পেয়ে এরাজ্যের সিআইডি টিম বেঙ্গালুরু যায়। সেখান থেকে ইমরান ও তার শাগরেদকে গ্রেপ্তার করে আনে তারা। ধৃতদের এরাজ্যে স্থানীয় আদালতে তোলা হয় মঙ্গলবার।
ইমরানকে জেরা করে তদদন্তকারীরা জেনেছেন, তার টিম মেম্বার একশোর বেশি। তার কিছু লোক বিভিন্ন অ্যাসম্বেলিং ইউনিটে কাজ নিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে তারাই তাকে জানাচ্ছে, কোন কন্টেনারে কত মাল লোড রয়েছে। এছাড়া গাড়ির নম্বর, সেই গাড়ি কোন রুটে যাচ্ছে প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্যাদি পৌঁছে যেত ইমরানের কাছে। সেই অনুযায়ী অ্যাসেম্বলিং ইউনিট বা ওয়্যারহাউস থেকে লরি বেরনোর পর তার অপারেশন টিমের সদস্যরা গাড়ি নিয়ে পিছু ধাওয়া করে মাঝরাস্তায় লরি আটকাত। চালককে খুন করে কন্টেনার ভেঙে লুট করা হতো মোবাইল ফোন। সেগুলি জমা করা হতো ইমরানের কাছে। তারপর তা পাচার হয়ে যেত দুবাই, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে। তার বিরুদ্ধে বাংলা ছাড়াও বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানা, কেরল, মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে দশটির বেশি অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে প্রকাশ, ইমরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লুকিয়ে থাকা সাইবার জালিয়াতদের পরিচয় ছিল। আইফোন যেত তাদের কাছে। এগুলি ব্যবহার করে তারা সাইবার প্রতারণা টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন নির্দেশ পাঠাত। কিছু ফোনের কাগজপত্র তৈরি হতো দুবাইতে। পরে সেগুলি ‘বৈধ’ বানিয়ে ভারতে পাঠিয়ে তার পরিচিতদের দোকানে দিত বিক্রির জন্য।