


সংবাদদাতা, কালনা: তীব্র গরমে পড়তেই আখের রসের চাহিদা বাড়ছে। বাড়ছে আখের দামও। গত বছর এইসময়ে এক একটি আখ বিক্রি হয়েছে ১৫-১৮ টাকায়। সেখানে এবার আখ বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ টাকায়। স্বাভাবিকভাবে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। আগামী গরমের দিনগুলিতে আরও দাম বাড়বে বলে আশাবাদী চাষিরা।
আখ চাষ বারো মাস হয়। কালনা মহকুমায় পূর্বস্থলী-১ ও ২, কালনা-১ ব্লকে আখ চাষ হয়ে থাকে। মূলত তিন জাতের আখ চাষ হয়। সামসেরা, বাঁশমাল ও দেশি বা খাগড়ি আখ। অন্যান্য ফসলের থেকে এই চাষে ঝুঁকি কম থাকায় দিনকে দিন বাড়ছে আখ চাষের জমির পরিমাণ। কালনা মহকুমায় একমাত্র পাইকারি আখ বিক্রয় কেন্দ্র বা আড়ত রয়েছে নাদনঘাট থানার গোয়ালপাড়া এলাকায়। এখানে কালনা মহকুমা ছাড়াও নদীয়া, হুগলি জেলা থেকে বহু চাষি আখ বিক্রি করতে আসেন। এবার গরম পড়তেই দাবদাহের শুরুতে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা হচ্ছে। তাতেই স্বস্তি পেতে রাস্তার ধারে, হাট-বাজারে, স্টেশনে, বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আখের রসের দোকানগুলিতে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাহিদা থাকায় বাড়ছে আখের দাম। গোয়ালপাড়া আড়তে আসা আখ শুধু এলাকায় বিক্রি হয় তা নয়, আসানসোল, দুর্গাপুর, কলকাতা সহ ভিনরাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকেও পাইকারি ক্রেতারা এসে ট্রাকবোঝাই করে আখ নিয়ে যান। এক বিঘা আখ চাষ করতে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। ফলন হয় বিঘা প্রতি আট থেকে ১০ হাজার পিস। একটি পুর্ণাঙ্গ আখ বিক্রির উপযোগী করতে প্রায় আট থেকে ১০ মাস সময় লাগে। বাজার ভালো থাকলে এক বিঘা জমির আখ বিক্রি হয় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকায়। কালনা মহকুমায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়।
আখ চাষি নোয়ারাম নন্দী, হৃদয় দেবনাথ বলেন, সেচ, সার ও যত্নের উপর ফলন নির্ভর করে। শীতের মরশুমে চাহিদা তেমন না থাকলেও পুজো- পার্বণ ও গরমে আখের চাহিদা বেশ ভালো থাকে। এবার আখের জোগান কম থাকায় গতবারের থেকে কিছুটা বেশি দাম মিলছে। আড়তদার সুশান্ত ঘোষ বলেন, এবার গরমে আখের ভালো চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী। এবার একটু বেশি লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে।
পূর্বস্থলী-২ ব্লক কৃষি আধিকারিক জীবন নাথ বলেন, চাষিদের প্রথাগত ঝুঁকির চাষ কমিয়ে বিকল্প আখ, পেয়ারা, লেবু প্রভৃতি চাষে জোর দিতে বলা হচ্ছে। আখ চাষে ঝুঁকি কম। লাভ বেশি। চাষের শুরুতে আখের জমিতে ডাল শস্য চাষ করেও অতিরিক্ত লাভ পেতে পারেন চাষিরা। এবার আখের ফলন সহ দামও বেশ ভালো।