


জীবন ছুটছে রকেটগতিতে। দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে এলোমেলো সময় কাটানোর সাধ থাকলেও ফুরসত নেই অফিসকাছারির দিন। বাড়িতে থাকলেও রুটিনে বাঁধা নিয়মের নিগড় ছিঁড়ে বেরনোর উপায় হাতে নেই। অগত্যা বাড়তি কাজ, শখের জন্য বরাদ্দ থাকে ছুটির দিনটা। ছুটোছুটির দিন আর ছুটির দিন, গৃহস্থের এই দুইভাগে বিভক্ত জীবনে বেশ কিছুটা মুশকিল আসান হয়ে উঠেছে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। বেশ কিছুটা খাবার তৈরি রাখা, দরকারি তরিতরকারি দীর্ঘদিন টাটকা রাখা, প্রয়োজনীয় পানীয়, আইসক্রিম মজুত রাখা ইত্যাদি নানা কাজে ফ্রিজের ব্যবহার বহু গৃহস্থ বাড়িতেই অপরিহার্য। যাঁরা ক্লাউড কিচেন কিংবা খাওয়াদাওয়ার ছোটখাট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁরাও ফ্রিজকে ব্যবহার করেন পেশাগত কারণে। তবে ফ্রিজের বহুল ব্যবহারের কারণে মাঝেমধ্যেই ফ্রিজে দুর্গন্ধ হয়। ফ্রিজ দ্রুত অপরিষ্কারও হয়ে যায়। কাঁচা মাছ-মাংস, জমা বরফ, টুকটাক সব্জি, নানা তরিতরকারি, দুধ, মশলা মিলেমিশে ফ্রিজে গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন দশা তৈরি হয়। কিন্তু ঘরোয়া কিছু উপায় জানলে ফ্রিজের গন্ধ সহজেই দূর করা যায়, ফ্রিজকে পরিষ্কার রাখাও সহজ হয়।
গন্ধের মোকাবিলা
লেবু: ফ্রিজের গন্ধ দূরীকরণ প্রকল্পে সবচেয়ে সহজ ও কম খরচের বিনিয়োগ লেবু! অত বড় ফ্রিজের দুর্গন্ধ রুখতে একটি মাঝারি পাতিলেবুই যথেষ্ট। লেবুতে থাকা সাইট্রাস ফ্রিজের গন্ধ দূর করে। পাতিলেবু দু’ভাগ করে কেটে ফ্রিজের দুই কোনায় রেখে দিন। ফ্রিজে থাকতে থাকতে লেবুটি শুকিয়ে গেলেও এর খোসারও দুর্গন্ধ দূর করার ক্ষমতা আছে। লেবুর খোসা গ্রেট করে একটি বাটিতে রেখে দিলেও ফ্রিজের গন্ধ সহজেই দূর হবে।
ভিনিগার: ভিনিগারেও রয়েছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড, যা দুর্গন্ধ দূর করতে দক্ষ। একটি বাটিতে অল্প ভিনিগার নিয়ে ফ্রিজের উপরের দিকে কোনও তাকে রেখে দিন। ওতে ফ্রিজের গন্ধ দূরে থাকবে। ফ্রিজের সব জিনিস নামিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কারের সময়ও ভিনিগারের স্প্রে দিয়ে ভালো করে মুছে নিতে পারেন ফ্রিজের ভিতরটা। এতেও ফ্রিজে সহজে গন্ধ হয় না।
বেকিং সোডা: ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডার জুড়ি মেলা ভার। সংসারের টুকিটাকি একটি বাটিতে বেকিং সোডা ভরে ফ্রিজে রাখুন। বেকিং সোডা ফ্রিজের দুর্গন্ধ শুষে নেবে।
কফি: ফ্রিজের এক কোনায় একটি বাটিতে কফি গুঁড়ো রাখতে পারেন। কফিতে থাকা ক্যাফিনেরও স্যাঁতসেঁতে গন্ধ টেনে নেওয়ার ক্ষমতা আছে।
এ তো গেল ঘরোয়া উপায়ে ফ্রিজের গন্ধ দূর করার পদ্ধতি। কিন্তু নিত্যদিনের ব্যবহারের সামগ্রী যদি নিয়ম মেনে পরিষ্কার না হয়, তাহলে ফ্রিজের মেয়াদ বাড়ে না, সহজে নষ্ট হয় বৈদ্যুতিন সামগ্রী। তাছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ফ্রিজে জিনিস এক জায়গায় ঘেঁষাঘেঁষি করে জড়ো করে রাখা হয় না বলে বৈদ্যুতিক বিলও কম আসে। তাই ফ্রিজ পরিষ্কার রাখলে আখেরে লাভ আপনারই।
পরিষ্কারের পদ্ধতি
ফ্রিজ পরিষ্কারের অম্তত ৩০ মিনিট আগে ফ্রিজের সুইচ বন্ধ করে দিন। তারপর খালি করে ফেলুন ফ্রিজ। ডিপ ফ্রিজে রাখা আইসক্রিমও কিন্তু পরিষ্কারের আগে বাইরে বের করতে হবে। তাতে আইসক্রিম গলে যাওয়ার ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে। তাই ফ্রিজে আইসক্রিম থাকলে পরিষ্কারের দিন কয়েক আগে থেকেই চেষ্টা করুন তা খেয়ে নিতে। ডিপ ফ্রিজে খুব বরফ জমে থাকলে একটা বেলা ফ্রিজ অফ রেখে জমা বরফ গলিয়ে নিন। এরপর প্রয়োজন পড়বে একটি ছোট মাইক্রোফাইবারযুক্ত কাপড় তোয়ালে বা নরম সুতির কাপড়, স্পঞ্জ, ব্রাশ, জল, ডিটারজেন্ট ও ডিশওয়াশ, একটি স্প্রে বোতলে ভিনিগার ও জলের মিশ্রণ।
পরের ধাপে ফ্রিজের সব তাক খুলে রাখুন। ডিপ ফ্রিজের ট্রে বের করে আলাদা করে রাখুন। পরিষ্কারের জন্য নিন ঈষদুষ্ণ গরম জল। গরম জলের সঙ্গে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে ফেলুন ফ্রিজের ভিতরটা। এরপর সুতির কাপড়ে সাধারণ গরম জল মিশিয়ে ভালো করে মুছে নিন ফ্রিজের ভিতরের অংশ। এবার শুকনো সুতির কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে মুছে ফেলুন পুরো জায়গাটা। এবার একটি স্প্রে বোতল থেকে মিশ্রণ ছিটিয়ে দিন ফ্রিজের ভিতর। পর্যাপ্ত স্প্রে ছড়ানো হলে মাইক্রোফাইবারযুক্ত কাপড় দিয়ে তা ভালো করে মুছে ফেলুন। এতে ফ্রিজে সহজে দুর্গন্ধ হবে না। তরকারি রাখার ক্রেট ও তাকগুলিও একই উপায়ে সাবান-জল ও ভিনিগারের মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে শুকনো করে নিন।
ফ্রিজের বাইরের অংশও এই মিশ্রণের স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। চারপাশের রাবারে মোড়া অংশকে সাফ করতে প্রথমে শুকনো কাপড়ে অল্প জল নিয়ে চেপে চেপে পরিষ্কার করুন। তারপর একদম শুকনো কাপড় দিয়ে তা মুছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ফ্রিজ পুরো শুকিয়ে গেলে আবার খাবারদাবার সাজিয়ে ফেলুন ফ্রিজের ভিতর। তখনও খেয়াল রাখবেন যেন তরিতরকারির দাগ, ঝোল ফ্রিজে না লাগে। দুধের প্যাকেটে, কাঁচা মাছ-মাংস থাকলেও খেয়াল রাখবেন পরিচ্ছন্নতার দিকে। তারপর সুইচ অন করে ফ্রিজ ফের চালু করে দিন।
মনে রাখুন
ফ্রিজে বেশি খাবার ঠাসা থাকলে ফ্রিজ পরিষ্কারে সময় বেশি লাগে। সব খাবার বের করা, আবার গুছিয়ে রাখায় অনেকটা সময় যায়। তাছাড়া তার চেয়ে সপ্তাহে যেদিন ফ্রিজে কম জিনিস থাকবে, সেদিনটি ফ্রিজ পরিষ্কারের জন্য বেছে নিন।
মনীষা মুখোপাধ্যায়