


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কুম্ভ বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু, মৃতের পরিবারকে যোগী সরকার দিল মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা। তাও নগদে। প্রয়াগরাজে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন জামুড়িয়ার কেন্দার বাসিন্দা বিনোদ রুইদাস। স্বামীকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন শর্মিলাদেবী। ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল পরিবারে। কিন্তু, ক্ষুব্ধ শর্মিলাদেবী শুক্রবার বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের পুলিস এসে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে যায়। কোনও কাগজ না দেওয়ায় এই টাকা জমা নিতে চাইছে না ব্যাঙ্ক। আমাদের এখনও ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, ২৫ লক্ষ টাকা কেন দেওয়া হল না?
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, গরিব মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। কোন সরকার এভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়? আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক।
বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি না জেনে কোনও মন্তব্য করব না। কী হয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানব। প্রয়োজনে গরিব পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে আবেদন করব।
গত ২৯ জানুয়ারি জামাইবাবু বিনোদ রুইদাসকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দার বিষ্ণু রুইদাস প্রয়াগরাজে পুণ্যস্নান করতে গিয়েছিলেন। তাঁর চোখের সামনেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। দু’দিন পর হাসপাতালের মর্গে তিনি জামাইবাবুর দেহ খুঁজে পান। তিন নাবালক সন্তান রয়েছে বিনোদবাবুর। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে রুইদাস পরিবারের। তারপর যোগী সরকার ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করায় তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতে এল পাঁচ লক্ষ টাকা। প্রশ্ন উঠছে, বাকি টাকার কী হল? আদৌ মিলবে তো?
এদিকে ঘটনার প্রায় দু’মাস পরেও বিনোদের ডেথ সার্টিফিকেট পায়নি পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার মৃতের শ্যালক বিষ্ণুকে ফোন করেন উত্তরপ্রদেশ পুলিসের এক অফিসার। তার কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা মৃতের বাড়িতে হাজির হন। মৃতের স্ত্রী
শর্মিলা রুইদাসের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা যে পাঁচ লক্ষ টাকা পেয়েছেন, তা একটি সাদা কাগজে লিখিয়েও নেওয়া হয়। কিন্তু তাঁদের কোনও সরকারি কাগজ দেওয়া হয়নি। শর্মিলাদেবী বলেন, স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট না পেলে আমার সন্তানরা সমস্যায় পড়বে। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন প্রথম থেকেই আমাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করছে। যে টাকা দিয়ে গেল তাও ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।