


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআরের কাজ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির পাশাপাশি ইতিমধ্যে বহু জায়গায় পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহের কাজও শুরু করে দিয়েছেন বিএলওরা। এই আবর্তে এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত সবুজ-লাল-গেরুয়া, সব শিবিরের নেতা-কর্মী। কারণ, দলের নির্দেশে পাড়ায় পাড়ায় সহায়তা শিবির চালু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। দলের পদাধিকারীরাও ব্যস্ত নিজ নিজ এলাকার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে। স্থানীয় স্তরের এই নেতা-কর্মীদের একটা একটা বড়ো অংশই আবার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচিত পদাধিকারী বা সদস্য। এর পাশাপাশি ইনিউমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের আধিকারিক এবং কর্মীরা। এর ফলে তাঁদের পক্ষে কোনওভাবেই আর পঞ্চায়েত পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই ভাটা পড়ছে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছেন, এসআইআরের কাজের জন্য যেন উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত না হয়। এপ্রিল-মে মাসে ভোট। তার তিন-চার মাস আগে থেকেই বাংলায় উন্নয়নের কাজ ব্যাহত করার জন্যই এই সময় এসআইআর করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যকেই সামনে রেখে এক পঞ্চায়েত প্রধান জানিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলেও প্রশিক্ষণে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, এলাকা ছাড়লেই যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে।
‘সোসাইটি ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ অন পঞ্চায়েতে অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’ (স্টারপার্ড)-এর রাজ্যস্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি রয়েছে কল্যাণীতে। এছাড়াও প্রতিটি জেলায় পঞ্চায়েতের কাজকর্ম সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে। গত বছর পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য এবং আধিকারিক মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৮১ জনকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশই ছিলেন প্রধান, উপপ্রধান, সভাধিপতি, সদস্য সহ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধি। কিন্তু এবছর এখনও পর্যন্ত তার অর্ধেক, মাত্র ১ লক্ষ ৪০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বৃহস্পতিবার কল্যাণীতে ‘ম্যানেজমেন্ট’ সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ বাতিল করে দিতে হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৬৬ জনের প্রশিক্ষণের কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, এসেছেন মাত্র ১০ জন। এক-একটি প্রশিক্ষণের জন্য ভালোরকম খরচ হয়। এক বছরে শুধুমাত্র ‘স্টারপার্ড’-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণের জন্যই খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে ৬৬ জনের জায়গায় মাত্র ১০ জনকে প্রশিক্ষণ সময় ও অর্থ জলে যাওয়ার সমান বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এই কারণেই এখন বাতিল করে পরবর্তী সময়ে সুবিধামতো প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের কথা ভাবা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কল্যাণীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মতো জেলার কেন্দ্রগুলিতেও একই পরিস্থিতি বলে জানা গিয়েছে।