


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তালসারিতে শ্যুটিংয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এর জেরে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টেসের তরফে। এই সংস্থারই প্রযোজিত ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’র শ্যুটিং করতে গিয়ে তালসারির সমুদ্র সৈকতে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। লীনা ধারাবাহিকটির কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার। রাহুলের মৃত্যু তদন্তকে পক্ষপাতিত্বের কোনো ধারণা যাতে প্রভাবিত না করে, সেই কারণে নিরপেক্ষতার স্বার্থে লীনার এহেন ইচ্ছাপ্রকাশ।
ঘটনার তিনদিন পর, বুধবার প্রযোজনা সংস্থার তরফে একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘সংবাদ মাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সকে প্রায়ই শুধুমাত্র লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সংস্থা হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, লীনা ২০১০ সাল থেকে একজন লেখক এবং ক্রিয়েটিভ হেড হিসাবে এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ২০১১ সালে বোর্ডে যোগদান করেন। তবে, তিনি কোনো প্রোমোটার বা অপারেশনাল এগজিকিউটিভ নন। তাঁর ভূমিকা সর্বদা সৃজনশীল দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত আমাদের শোগুলির লেখক হিসাবে তাঁর নামই ছিল, তাঁকে খুব সামান্য ইক্যুইটি এবং একজন সহ-প্রযোজকের আসন দেওয়া হয়।’
রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল তা বোঝার জন্য ওইদিন তালসারিতে উপস্থিত কলাকুশলীদের সঙ্গে কথা বলছে তারা। কলাকুশলীরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পেতে তাই আরো কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় সংস্থার ডিরেক্টর শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুম্বইতে ছিলেন। প্রোডাকশন ম্যানেজারের কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওই রাতেই কলকাতা ফিরে রাহুলের বাসভবনে যান শৈবাল। কিন্তু তখন পরিবারের কেউই দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনার অবস্থায় ছিলেন না। এখন তারা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। দরকারে যাবতীয় নথিও পেশ করতে রাজি তারা। বিবৃতিতে প্রয়াত অভিনেতার ৪০ মিনিট ধরে জলে ডুবে থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, রাহুলকে যখন জল থেকে উদ্ধার করা হয়, তখন তিনি জীবিত ছিলেন এবং কথা বলার চেষ্টা করছিলেন, যদিও তিনি হয়তো স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। তৎক্ষণাৎ রাহুলকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময়ে সেখানে কোনো ডাক্তার ছিলেন না। ফলে, তাঁকে আবার দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। সেখানেই মৃত ঘোষণা করা হয় অভিনেতাকে। তদন্তে যেন কোনো ফাঁক না থাকে, তা নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থাটি।
শোনা যাচ্ছে, মঙ্গলবার রাতে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে একটি বৈঠক হয়। তারপর বুধবার সকাল থেকে শোনা গিয়েছিল, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করতে পারেন প্রিয়াঙ্কা। পাশাপশি আর্টিস্ট ফোরামেরও নাকি এফআইআর করার কথা ছিল। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা হয়নি। এদিন পরিচালক অরিন্দম শীল সমাজমাধ্যমে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।