


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা। এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা...’ কবিগুরুর গানে যে ধ্রুবতারার সন্ধান মিলেছে, এই প্রজন্মও কি তেমন করে নিজের জীবনের আদর্শ মানুষকে খোঁজে? খোঁজে বইকি। কারা হন আজকের কচিকাঁচাদের বা যুবক-যুবতীদের রোল মডেল? সেসব মানুষের জিম্মায় কী এমন থাকে, যার স্পর্শ পাওয়ার আবেশে ভেসে থাকে আজকের জেনারেশন আলফা? তারই সুলুকসন্ধান করতে চাইছে ডাক বিভাগ। এই প্রজন্মকে উদ্ভাবনী কিছু করার তাগিদ উস্কে দিতে চিঠি লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে তারা। স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া বা তার চেয়েও বড়রা চিঠি লিখবেন তাঁদের ‘রোল মডেল’কে। হতে পারেন তিনি কোনও বিজ্ঞানী। বা সাহিত্যিক, খেলোয়াড়, বিনোদন দুনিয়ার তারকা। তিনি হতে পারেন বাবা, মা বা এমন কোনও মানুষ, যাঁর বেঁচে থাকার রসায়নকে মিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে নিজের যাপনের সঙ্গে। তিনি যে-ই হোন না কেন, পত্রলেখক জানাবেন কেন সেই ব্যক্তি তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা স্বরূপ।
চিঠি লেখার অভ্যাস খুইয়েছে এই প্রজন্ম। তবু কেউ কেউ উল্টো স্রোতে হাঁটেন। আবার এমনও বহু লোক আছে, যাদের কাছে অজানাই রয়ে গিয়েছে চিঠি লেখার আনন্দ। সেসব লুকিয়ে থাকা ভালোলাগাকে প্রাণ দিতেই প্রতিবছরই পত্র প্রতিযোগিতার আসর বসায় ডাক বিভাগ। আঞ্চলিক ও জাতীয়স্তরের ওই প্রতিযোগিতার এবারের বিষয়, ‘আমার রোল মডেলকে লেখা চিঠি’। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ সালের মধ্যে পাঠাতে হবে সে পত্র। ইংরেজি, হিন্দি অথবা যে কোনও আঞ্চলিক ভাষায় চিঠি লিখতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে। প্রতিযোগিতার দু’টি ভাগ। একটি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। অন্যটি তার উপরের বয়সের জন্য। দু’টি বিভাগেই আবার দু’টি করে ভাগ। একটি খামে ভরা চিঠি, অন্যটি ইনল্যান্ড লেটার। খামের চিঠিটির শব্দসংখ্যা ১ হাজারের মধ্যে হতে হবে। ইনল্যান্ড লেটারের ক্ষেত্রে তা ৫০০ শব্দ। প্রতিটি ভাগ থেকেই সেরা তিনটি চিঠি বেছে নেওয়া হবে (১২টি) এবং পুরস্কৃত করা হবে লেখকদের। সেই চিঠিগুলিই দেশীয়স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য পাঠাবে প্রতিটি রাজ্য বা পোস্টাল সার্কেল। আঞ্চলিকস্তরে চারটি ভাগেই আলাদা আলাদা করে চারটি প্রথম পুরস্কার দেওয়া হবে, যার প্রতিটির অর্থমূল্য ২৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০ ও ৫ হাজার টাকা। সঙ্গে দেওয়া হবে শংসাপত্র। তারপর এই পর্যায়ের সেরাদের নিয়ে জাতীয়স্তরে হবে প্রতিযোগিতা। সেখানে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০, ২৫ এবং ১০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের পয়লা জানুয়ারিতে প্রতিযোগিদের যেমন বয়স থাকবে, সেই মতোই অংশ নেওয়া যাবে প্রতিযোগিতায়। ডাকঘরগুলিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। ডাকবিভাগের ওয়েবসাইট থেকেও তা জানা যেতে পারে। দপ্তরের আধিকরিকদের কথায়, এর আগে এমন বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে প্রতিযোগীরা প্রথমবার চিঠি লিখছেন। এবং সেটি আমাদের। তাদের ভিতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বের করে আনতে পারাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।