


নয়াদিল্লি: কর্পোরেট ও ধনী ব্যবসায়ীদের জন্য উদারহস্ত মোদি সরকার! বিরোধীদের এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, কেন্দ্রের নীতির লক্ষ্যই হল, মোদির ঘনিষ্ঠ কর্পোরেট বন্ধুদের সুবিধা প্রদান। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না রাখলে টাকা কেটে নেওয়ার নিয়ম মোদি জমানাতেই চালু হয়েছিল। এতে বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা ঢুকেছে ব্যাংকের পকেটে। সমালোচনার মুখে বেশ কিছু ব্যাংক এই নিয়ম প্রত্যাহার করেছে। তারপরও জুলাইতেই একটি সরকারি পরিসংখ্যানেই জানা গিয়েছিল, গত পাঁচ বছরে ন্যূনতম ব্যালান্স না থাকায় জরিমানা বাবদ শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের যখন এই অবস্থা, তখন কর্পোরেট মহলকে ছাড়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এরইমধ্যে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলি ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ মকুব করেছে। এর পোশাকি নাম অবশ্য ‘রাইট অফ’। এরমধ্যে বড় অংশই যে কর্পোরেট ঋণ, তা বলাই বাহুল্য। রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত পাঁচটি অর্থবর্ষ ও চলতি অর্থবর্ষের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ রাইট অফের পরিমাণ ৬.১৫ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীর ব্যাখ্যা, ঋণ রাইট অফের অর্থ ঋণ মকুব নয়। ঋণ গ্রহণকারী তা ফেরত দিতে বাধ্য। কিন্তু সরকার বকেয়া আদায় নিয়ে কী তথ্য দিচ্ছে? সেখানে বলা হয়েছে, ওই পাঁচ বছরে মোট রাইট অফ লোনের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির আদায়ের পরিমাণ মাত্র ১.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা।
এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, বছরের পর বছর ঋণ রাইট অফের নামে ঋণ মকুবের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে মাশুল দিতে হচ্ছে আমজনতাকেও। ধাক্কা খাচ্ছে ব্যাংকগুলির আর্থিক স্বাস্থ্যও। যদিও সরকারের দাবি, ব্যাংকগুলির আর্থিক পারফরম্যান্স উন্নত হয়েছে। মূলধনের ভিতও মজবুত। তাই এত বিপুল পরিমাণ রাইট অফ সত্ত্বেও কেন্দ্রে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে মূলধনের জোগান দেয়নি। গত পাঁচ বছরে ঋণ রাইট অফের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল ২০২০-২১ অর্থবর্ষে। পরিমাণ ছিল ১.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা। পরের অর্থবর্ষে কিছুটা কমে তা হয় ১.১৬ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে ফের তা মাথা তুলে পৌঁছেছে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকায়। এত বিপুল পরিমাণ ঋণ রাইট অফের প্রভাব কী? এব্যাপারে সরকারের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির লাভ বেড়েছে। নিজেদের প্রয়োজনে তারা বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।