


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বাংলা নববর্ষে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগের বিভিন্ন মন্দিরে বহু মানুষ পুজো দিলেন। মঙ্গলবার নতুন বছরের প্রথমদিনই তিনটি এলাকার মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। বিশেষত পুজো দিতে মহিলাদের বেশি ভিড় দেখা যায়। সোমবার রাতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় কালবৈশাখীর জেরে ঝড়বৃষ্টি হয়। ফলে এদিন সকাল থেকে আবহাওয়া কিছুটা মনোরম ছিল। ফলে অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও পুণ্যার্থীদের গলদঘর্ম অবস্থা হয়নি।
এদিন বাঁকুড়া শহর সহ জেলার সর্বত্র পুজোপাঠের আয়োজন করা হয়। বাঁকুড়া শহরের ভৈরবস্থান, সতীঘাটের ছিন্নমস্তা ও হনুমান মন্দির, মহামায়া মন্দির, শহর লাগোয়া এক্তেশ্বর মন্দিরে সকাল থেকেই পুণ্যার্থীরা পুজোর ডালা হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকেই দোকানের হালখাতা নিয়ে মন্দিরে পুজো দেন। বিভিন্ন দোকানে এদিন হালখাতা উপলক্ষ্যে পুজো হয়। বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী শহরের বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেন। সেইসঙ্গে তিনি পুণ্যার্থীদের মধ্যে লাড্ডু ও মিষ্টি বিলি করেন। বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় স্থানীয় কালীমন্দিরে পুজো দেন।
বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা নবনীতা ভট্টাচার্য, কস্তুরী সাহা বলেন, আমরা প্রতিবছর নববর্ষে মন্দিরে পুজো দিই। পরিবারের মঙ্গল ও বিশ্বশান্তির জন্য দেবদেবীর কাছে প্রার্থনা জানিয়েছি। বিষ্ণুপুরের ছিন্নমস্তা মন্দির ও জয়রামবাটির মাতৃমন্দিরেও এদিন ভক্তসমাগম হয়। খাতড়া মহকুমার বিভিন্ন মন্দিরেও অনেকে পুজো দিয়েছেন।
এদিন সকাল থেকেই পুরুলিয়া শহরের চকবাজার কালীমন্দিরে পুজো দিতে পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। রঘুনাথপুর-২ ব্লকের মৌতড়ের মা বড়কালী মন্দিরেও প্রচুর ভক্তসমাগম হয়। ঝড়খণ্ড থেকেও বহু মানুষ এই মন্দিরে ভিড় জমিয়েছিলেন। অযোধ্যার লহরিয়া শিবমন্দির, ঝালদার ছুতার দুর্গামন্দির, পুঞ্চার ভগড়ার শিবমন্দির, বুধপুরে বাবা বুদ্ধেশ্বরের প্রাচীন মন্দির সহ গ্রামাঞ্চলের ছোটবড় মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের ভিড় ছিল। জেলাজুড়ে নববর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনেকেই পুণ্যলাভে জলসত্র নিয়ে মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করেন।
মঙ্গলবার আরামবাগেও মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের ঢল নামে। এদিন সকালে আরামবাগের পাঁড়েরঘাট মন্দিরে পুরুষ-মহিলারা ভিড় জমান। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে বছরের প্রথমদিনে ঠাকুরের দর্শনে যান ভক্তরা। সরকারি ছুটি থাকায় বাইরে থেকেও বহু পুণ্যার্থী এদিন কামারপুকুরে আসেন। আরামবাগ সহ মহকুমার বিভিন্ন বাজারে এদিন সোনার দোকান সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে। বিভিন্ন দোকানে ব্যবসায়ীরা পুজোর ব্যবস্থা করেন। অনেকে মন্দিরে গিয়েও পুজো দিয়েছেন। আরামবাগের একটি নাট্যগোষ্ঠী এদিন প্রভাতফেরি বের করে।
আরামবাগের বাসিন্দা অমিত বিশ্বাস, মালা রায় বলেন, নববর্ষে প্রতিবছর মন্দিরে গিয়ে পুজো দিই। এবারও তাই দিয়েছি। সারাবছর যাতে পরিবারের সবাই সুস্থ থাকে, সেই কামনায় পুজো দিয়েছি।