


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চাপড়ার মাটিতে কয়েক সপ্তাহ আগেই রোড শো থেকে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় ‘৮-০’ ব্যবধানে জেতার টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্য পূরণে এবার ‘অল আউট’ ঝাঁপানোর ডাক দিলেন কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ তথা জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র। সেই রণকৌশল সাজাতেই মঙ্গলবার বেলার দিকে কৃষ্ণনগরের দলীয় কার্যালয়ে ব্লক নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। আগামী রবিবারের মধ্যেই আটটি বিধানসভায় তৃণমূল স্তরে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে যাবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে বড়ো জনসভার পরিবর্তে ছোটো ছোটো সভাতেই জোর দিচ্ছে তৃণমূল।
কিন্তু এই প্রস্তুতি পর্বের মধ্যেও নদীয়া জেলাজুড়ে লক্ষাধিক বিচারাধীন ভোটারের বিষয়টি ভাবাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ এখনও তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বুথ ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ভোটার লিস্ট এসে পোঁছায়নি। শেষপর্যন্ত বুথস্তরের কতজন বিচারাধীন ভোটার ভোট দিতে পারবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই বিষয়টিও নিয়েও বৈঠকে ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন সাংসদ।
মহুয়া মৈত্র বলেন, ব্লক সভাপতি ও প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। প্রতি বিধানসভাতেই ব্লক নেতৃত্বকে নিয়ে আমরা সভা করব। এখন আমাদের লক্ষ্য কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলাকে বিরোধীশূন্য করা। আমাদের প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি প্রচারেই জোর দেবেন। বর্ষীয়ান প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রচারের ধরন একটু আলাদা হবে। বিচারাধীন ভোটারদের কতজন ভোট দিতে পারবেন সেটাও দেখার রয়েছে।
নেতৃত্বের সঙ্গে প্রার্থীদের এই মুখোমুখি বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উপস্থিত ছিলেন করিমপুর বিধানসভার সেলিব্রেটি প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। নদীয়া জেলায় এই প্রথম চলচ্চিত্র জগতের কাউকে প্রার্থী করায় স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। এমনকী সেলিব্রেটি প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা এগিয়ে আসেন। যদিও এ প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্র বলেন, সোহমকে আমি সেলিব্রেটি বলব না। সোহম একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। যার খুব ভালো পরিচিত রয়েছে। সোহম চক্রবর্তী বলেন, প্রথম মুহূর্ত থেকেই করিমপুর বিধানসভার একনিষ্ঠ কর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। এর ফলে আমাদের শক্তি দ্বিগুণ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নকে সামনে রেখে জেতাই আমাদের লক্ষ্য।
বৈঠকে আলিফা আহমেদ, অভিনব ভট্টাচার্য, উজ্জ্বল বিশ্বাস, রুকবানুর রহমান সহ মোট সাতজন তৃণমূল প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। তবে নাকাশিপাড়ার বর্ষীয়ান তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খাঁ অনুপস্থিতি ছিলেন। তাঁকে এদিন মন্দিরে পুজো দিয়ে দেওয়ালে নাম লিখতে দেখা গিয়েছে। এছাড়াও অনুপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগর ২ ব্লকের সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি সঞ্জয়বাবুকে নিয়ে জেলা সভাপতির কড়া বার্তা সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এদিনও তিনি কিংবা র্তাঁ কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেনে মহুয়া। এছাড়া বৈঠক চলাকালীন কৃষ্ণনগর ১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল ও স্বপন ঘোষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি, শক্তি, দুর্বলতা এবং ভোটের অঙ্ক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। ব্লক নেতৃত্বের থেকে বুথস্তরের রিপোর্টও নেওয়া হয়। কারণ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর সাংগঠনিক জেলায় কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা বাদে ৭টি আসনেই জয়ী হয়েছিল। তবে ধর্মীয় মেরুকরণ, এসআইআর ইস্যু, অন্তর্দ্বন্দ্ব সহ একগুচ্ছ কারণে বেশ কিছু আসনে তৃণমূলের লড়াই কঠিন হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সমস্ত বিষয় কাটিয়ে উঠতেই মঙ্গলবার বৈঠক ছিল অন্তত তাৎপর্যপূর্ণ।