


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের টাকা মূলধন করে ব্যবসা করছেন বহু মহিলা। তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলছে অনুদানের টাকা। শীতে আধুনিক ডিজাইনের ব্ল্যাঙ্কেট কিংবা লেপের পাশাপাশি ব্যাপক চাহিদা আছে বালাপোশেরও। তার দাম নাগালের মধ্যে। তাই বহু মানুষ শীতে বালাপোশ ব্যবহার করেন। হাওড়ায় শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন বাজারে বালাপোশ তৈরি করে সরবরাহ করেন উলুবেড়িয়া মহেশপুর কলোনির মহিলারা। শীত শুরু হওয়ার পর এখানকার শতাধিক মহিলা বালাপোশ তৈরির কাজে লাগেন। শীতের সময় চাহিদা বাড়ায় জোর ব্যস্ততা তাঁদের। বাড়তি লাভের আশায় তাঁদের অনেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমিয়ে তা দিয়ে কাঁচামাল কিনছেন।
শীত এলে হাসি ফোটে মহেশপুর কলোনিতে। এই সময় গৃহবধূদের বাড়তি রোজগারের সময়। বছরের অন্যান্য সময় বিড়ি বাঁধার কাজ করেন তাঁরা। কেউ সেলাইয়ের কাজ করেন। কিন্তু শীতে বাড়তি রোজগারের আশায় বালাপোশ তৈরি করেন। কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিলাদের দিয়ে তা তৈরি করান। তারপর বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন। একটির জন্য ১০০ টাকা মজুরি। বালাপোশ তৈরি করতে লাগে দু’টি পুরোনো শাড়ি আর কয়েক কিলো সিন্থেটিক তুলো। শাড়ি দিয়ে হাত পাঁচেক লম্বা ও চারহাত চওড়া খোল তৈরি হয় প্রথমে। শাড়ির পাড় সরিয়ে রাখা হয়। খোল সেলাইয়ের পর বাড়ির উঠোনে ফেলে ভরা হয় তুলো। তারপর শাড়ির সঙ্গে মোটা সুতো দিয়ে সেলাই করে তৈরি হয় বালাপোশ। কলোনির বাসিন্দা সুখী রানা নামে এক গৃহবধূ দশ বছর ধরে বালাপোশ তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘আগে এই এলাকার কয়েকজন এই কাজ করতেন। এখন সব গৃহবধুই বালাপোশ তৈরি করছেন। দু’বেলা কাজ করলে দিনে দু’টো তৈরি হয়ে যায়।’ ব্যবসায়ীদের থেকে অর্ডার না নিয়ে এখন অনেকেই বালাপোশ তৈরি করে নিজেরাই দোকানে দোকানে সরবরাহ করছেন। রিনা রানা, সুধা বিশ্বাস নামে দুই গৃহবধূ বলেন, ‘কাঁচামাল নিজেরা কিনলে লাভ বেশি। তাই লক্ষীর ভাণ্ডারের কয়েক মাসের টাকা জমিয়ে আমরা কাঁচামাল কিনছি। গত কয়েক বছরেই এখানকার বহু মহিলা আর্থিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমে দিশা খুঁজে পেয়েছেন।’ মহিলারা বলেন, ‘আজকাল একটা ভালো লেপ করতে খরচ পড়ে হাজার টাকার মতো। সেই টাকায় তিনটির মতো বালাপোশ তৈরি হয়। ফলে চাহিদা বাড়ছে।’