


সংবাদদাতা, লালবাগ ও কান্দি: রবিবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে মহরম পালিত হল। মহরমকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জুলুস বের হয়। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ মহরমের জুলুসে যোগদান করেন। জেলাজুড়ে মহরম পালিত হলেও একদা বাংলা-বিহার-ওড়িশা তথা সুবে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ শহরে নবাবি আমলের ইতিহ্য মেনে মহরম পালিত হয়।
মহরমের দিন সকালে লালবাগের ইমামবারা থেকে জুলুস বের হয়। জুলুসে তাজিয়া, চাঁদির পাঞ্জাতন, চাঁদোয়া ও দুলদুল ঘোড়া প্রদর্শিত হয়। শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও জুলুসে যোগদান করেন। লালবাগ থেকে আমানিগঞ্জের কারাবালায় গিয়ে জুলুসের সমাপ্তি হয়। প্রদর্শিত হয় লাঠিখেলা। জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা শরীরে ব্লেড ও জঞ্জির মেরে ইমাম হাসান ও হোসেনের উদ্দেশে রক্ত উৎসর্গ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ‘অগ্নিমাতমে’ অংশগ্রহণকারীদের স্থানীয় বাসিন্দারা সরবত নজরানা দেন। মহরমের জুলুস দেখতে রাস্তার দুপাশে প্রচুর মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, মহরম উপলক্ষ্যে শনিবার রাতে লালবাগের ত্রিপোলি গেটের সামনের মাঠে অগ্নিমাতম অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার রাতে অগ্নিমাতমের পাশাপাশি রবিবার সকালে মহরমের জুলুস দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ লালবাগে ভিড় জমান। মহরম উপলক্ষ্যে কারবালার সামনে একদিনের মেলা বসেছিল। মেলায় তেলেভাজা, মিষ্টির পাশাপাশি খেলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছিল। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল সালেম শেখ বলেন, নবাবি আমলে মহরমের জুলুসে নবাব ও নবাব পরিবারের সদস্যরা হাঁটতেন। জুলুসে হাতি, ঘোড়া, উট থাকত। এখন মহরমের জুলুসের জাঁকজমক আর সেরকম নেই। তবে ঐতিহ্য ও নিষ্ঠায় খামতি নেই। নবাব পরিবারের সদস্য সৈয়দ রেজা আলি মির্জা(ছোট নবাব) বলেন, ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসেন ও হাসানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দুই নবির হত্যার স্মরণে মহরমের আগে দশ দিন ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা শোক পালন করেন। কারবালায় প্রতিদিন মজলিশ বসে। সন্ধ্যায় দরগাতে ধূপ ও মোমবাতি জ্বালানো হয়। শনিবার রাতে ভরতপুর-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে মহরম উপলক্ষ্যে তাজিয়া নিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। তবে ভরতপুর গ্রামের শোভাযাত্রায় কয়েক হাজার বাসিন্দা অংশ নিয়েছিলেন। ছিল কড়া পুলিসি ব্যবস্থা। এদিন ভরতপুর গ্রামের আট জায়গায় মহরমের জারিগানের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। প্রতিটি আয়োজক প্রথম সাতটি দলকে পুরস্কৃত করে। পুরস্কার হিসেবে টেলিভিসন, আলমারি, টেবিল ফ্যান থেকে নগদ টাকাও দেওয়া হয়। জারিগানের আসর গুলিতে হাজার হাজার দর্শনার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এবছর ডিজের দৌরাত্ম্য অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল। মহরম উপলক্ষ্যে শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে লালবাগে এসেছিলেন বীরভূমের নলহাটির মাজারুল শেখ। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই নবাবের শহরের মহরম দেখার ইচ্ছা ছিল। এবছর সেই ইচ্ছা পূরণ হল। এদিকে মহরম উপলক্ষ্যে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কোন প্রকার ঝামেলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জনবহুল এলাকাগুলিতে এদিন সকাল থেকেই পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন,
জেলাজুড়ে শান্তিতে এবং নির্বিঘ্নে মহরম পালিত হয়।