


সংবাদদাতা, কাটোয়া: মুম্বইয়ের একটি নামী ওটিটি সংস্থার ছ’কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল। ঘটনার তদন্তে নেমে রবিবার পূর্বস্থলীর এক যুবকের বাড়িতে হাজির হল মুম্বইয়ের এনএম যোশী মার্গ থানার পুলিস। ওই টাকা কোন কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, জানতে মরিয়া মুম্বই পুলিস। ওই যুবককে না পেয়ে তার স্ত্রী ও মাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। ওই সংস্থার প্রচারমূলক ভিডিও নাকি ইউটিউবে আপলোড করা হতো। আর সেই ভিডিওর মানিটাইজেশন বাবদ পাওয়া ছ’কোটি টাকার নাকি হদিস পাচ্ছে না ওই সংস্থা। পূর্বস্থলীতে ভিনরাজ্যের পুলিস আসায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কালনার এসডিপিও রাকেশ চৌধুরী বলেন, মুম্বই পুলিস একটি প্রতারণার মামলায় পূর্বস্থলী এসেছিল। আমাদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। আমরা সাহায্য করেছি। মামলাটি ওরাই তদন্ত করছে। মুম্বই পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি নামী সংস্থা ২০২৩ সালে মুম্বইয়ের এনএম যোশী মার্গ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তারা সেখানকার পুলিসকে জানিয়েছে, সংস্থার প্রোমোশনের জন্য বেশ কয়েকটি প্রচারমূলক ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছিল। তার জন্য মানিটাইজেশন শুরু হয়েছিল। তাতেই ইউটিউব থেকে নাকি বেশ কয়েকটি ধাপে ছ’কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল ওই সংস্থাকে। সংস্থাটির অভিযোগ, ওই টাকা কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে তা তারা নাকি জানে না। এরপরই তদন্তে নেমে মুম্বই পুলিস জানতে পারে, ওই টাকা দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। দু’জনেরই বাড়ি নাকি বাংলায়। অ্যাকাউন্টের সন্ধানে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানা এলাকায় আসে মুম্বই পুলিস। এদিন সকালেই এক যুবকের বাড়ি হানা দেয়। কিন্তু ওই যুবক বেপাত্তা। তার মা ও স্ত্রীকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে মুম্বই পুলিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলীর ওই যুবক মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ছোট থেকেই মোবাইল ও কম্পিউটারে তার তুখোড় জ্ঞান। তাই কাজের সন্ধানে কম বয়সেই সে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয়। সঙ্গে তার মা-বাবাকেও নিয়ে যায়। কিন্তু আট বছর আগে ওই যুবকের মা-বাবা পূর্বস্থলী ফিরে আসেন। যুবকের বাবা আগে ভাড়ার গাড়ি চালালেও এখন জমিতে চাষ করেন। ওই যুবকের প্রাসাদোপম বাড়ি দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। কী নেই সেই বাড়িতে! রয়েছে পেল্লাই লোহার দরজা। গোটা বাড়ি সিসি ক্যামেরায় মোড়া। রয়েছে চারচাকা গাড়িও। এদিন যুবকের মা বলেন, মুম্বই পুলিস আমাদের জিজ্ঞাসা করে, আমাদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ঢুকেছে কি না। কিন্তু আমার অ্যাকাউন্টে মাত্র ৩০ হাজার টাকা রয়েছে। ওরা বলছে, আমার ছেলে নাকি ছ’কোটি টাকা নিয়েছে। ওরা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে। তবে আমার ছেলে কয়েক বছর আগেই মুম্বই থেকে চলে এসেছে। সাতদিন ধরে ও বাড়িতে নেই। ওকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা পরিশ্রম করে বাড়ি তৈরি করেছি। তবে এদিন পাড়ার বেশ কয়েকজনকে বলতে শোনা গিয়েছে, রাতারাতি ওই যুবকের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিস।