


সুতপা গুহ, রায়পুর: জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুয়ায়ী জৈষ্ঠ মাসে সূর্য যখন রোহিনী নক্ষত্রে প্রবেশ করে তখন নৌতপা শুরু হয়। এবছর ২৫ মে অর্থাৎ আজ সূর্য রোহিনী নক্ষত্রে প্রবেশ করবে। এদিন থেকে আগামী ৯ দিন ‘নৌতপা’ চলবে। এই সময়ে এইসময়ে সূর্য পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে বলে বিশ্বাস। যার ফলে রোদের তেজ প্রখর হয়। গরম হাওয়া তথা ‘লু’ বইতে থাকে। কৃষকরা মনে করেন, ‘নৌতপা’র এই উষ্ণতা আসন্ন বর্ষায় ভালো বৃষ্টির লক্ষণ। এই সময়ে যত বেশি উষ্ণতা থাকবে,তত ভালো বৃষ্টি হবে। যার ফলে ফসল ভালো হবে।
কাশ্মীরে ডিসেম্বর মাসে তীব্র ঠান্ডা এবং তুষারপাতের মরশুমকে ‘চিল্লাই-কালান’ বলা হয়। অন্যদিকে, উত্তর ও মধ্য ভারতে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যখন তীব্র গরম অনুভূত হয়, তখন এই সময়পর্বকে ‘নৌতপা’ বলা হয়। নৌতপার সময় হিট স্ট্রোক এড়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। বেশি করে তরল জাতীয় খাবার, দই, নারকেল খাওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই নয় দিনে জল, ছাতা, মাটির কলসি, ফল, সুতি বস্ত্র, ছাতু ও হাত পাখার মতো সামগ্রী দান করলে পুণ্য হয়। এছাড়াও এই সময়ে পশু, পাখি ও গাছে জলদান অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়।
অনেকে আবার এই নয়দিনে সূর্যদেবতার পূজার্চনাও করে থাকেন। তাঁদের মতে, সূর্যদেবতা উষ্ণতা বেশি দিলে তা আগামীর জন্য সুখবর বয়ে আনে। নৌতপার সময়ে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় হাত-মুখ ঢেকে পকেটে বা শাড়ির আঁচলে একটি করে পেঁয়াজও রাখেন অনেকে। তাঁদের ধারণা, পেঁয়াজ সূর্যের রশ্মিকে নিজের মধ্যে টেনে নেয়। কেউ লু-র প্রকোপে পড়লে পেঁয়াজের জল দিয়ে স্নান করানো হয়। ‘নৌতপা’ বিশেষ করে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, দিল্লি, হরিয়ানা, গুজরাট, পাঞ্জাবে পড়ে। তবে এবছর নৌতপা-র সময় কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া অফিসের।