


দোহা: ২০২২ সালের স্টকহোম ডায়মন্ড লিগের স্মৃতি বারবার ফিরে আসছিল নীরজ চোপড়ার মনে। কী অদ্ভুত মিল সেদিন আর শুক্রবারের দোহার মধ্যে। তিন বছর আগে ফেভারিটের তকমা নিয়েই সুইডেন গিয়েছিলেন ভারতের সোনার ছেলে। জ্যাভেলিনও ছুড়েছিলেন স্বপ্নের ছন্দে। নিজেই ভেঙেছিলেন নিজের রেকর্ড। তাঁর থ্রো সেদিন অতিক্রম করে ৮৯.৯৪ মিটার দূরত্ব। কিন্তু সোনা জেতা হয়নি। পোডিয়ামে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা হয়েছিল তাঁর। প্রথম হয়েছিলেন অ্যান্ডারসন পিটার্স (৯০.৩১ মিটার)। শুক্রবার তারই অ্যাকশন রিপ্লে হল দোহায়। বহু প্রত্যাশিত ৯০ মিটার জ্যাভেলিন ছুড়েও গলায় উঠল রুপোর পদক। সোনা জিতলেন জুলিয়ান ওয়েবার (৯১.০৬ মিটার)। তবে মন খারাপ হলেও হতাশ নন নীরজ। প্রতিযোগিতার শেষে তাঁর মন্তব্য, ‘খারাপ একটু লাগছে। তবে আমি নিশ্চিত, আরও অনেকবার ৯০’এর গণ্ডি টপকাব। চলতি মরশুমে অনুরাগীদের মুখে হাসি ফোটানোই লক্ষ্য।’
গত চার বছর ধরেই ৯০ মিটারকে ম্যাজিক ফিগার রেখে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন নীরজ। এর মধ্যে সোনা ও রুপো জিতলেও লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল চোট। কুঁচকির ব্যথায় গত বছর বেশ ভুগতে হয়েছে তাঁকে। প্যারিস ওলিম্পিকসেও তাই সেরাটা মেলে ধরতে পারেননি তিনি। এরপর ২০২৪’এর নভেম্বরে চেক প্রজাতন্ত্রের জান জেলেজনিকে কোচ নিযুক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, ৯৮.৪৮ মিটার জ্যাভেলিন ছোঁড়ার রেকর্ড রয়েছে জেলেজনির দখলে। তাঁর তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় নীরজ অনুশীলন শুরু করেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। মাত্র চার মাসের মধ্যেই সুফল পেলেন ওলিম্পিকসে জোড়া পদক জয়ী তারকা। দোহায় তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৯০.২৩ মিটার জ্যাভেলিন ছুড়লেন নীরজ। ইভেন্টের শেষে তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের কৃতিত্ব কোচ জেলেজনির। তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। ট্র্যাকে নামার আগেও আমায় সাহস জুগিয়েছেন। তাই হতাশ হচ্ছি না। বরং বিশ্বাস, এবার ধারাবাহিকভাবে ৯০ মিটার ছুড়তে পারব। কারণ সেরাটা এখনও বাকি আছে। তার জন্য অনুশীলনও করছি জোরকদমে।’