


সবুজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর: জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়ে জঙ্গিপুরে একটি সভায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। জঙ্গিপুরে এসে তিনি উপস্থিত দর্শকের উদ্দেশ্যে ভাষণ ও দেন। স্মৃতি বিজরিত সেই স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জঙ্গিপুরের মহাবীরতলায় সদরঘাট গঙ্গার পাড়ে গড়ে ওঠে নেতাজি সুভাষ শিশুপার্ক। বসানো হয় তাঁর আবক্ষ মূর্তিও। তবে, এই পার্কে দেখা মেলে না কোনও শিশুর। একরকম অবহেলা পড়ে রয়েছে পার্কটি। পার্কে থাকা নেতাজির মূর্তিও অযন্তে পড়ে ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় ক্লাবের যুবকরা মূর্তিটির পরিচর্যা করেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়। আজ সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসেও ওখানে অনুষ্ঠান হবে। জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিবসে মহকুমা জুড়েই তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
জঙ্গিপুর ভাগীরথী নদীর পূর্বপাড়ে একেবারে গঙ্গার ধারে এক টুকরো জমিতে গড়ে উঠেছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত শিশুদের পার্ক। তৎকালীন ১৯৩৮ সালে গ্রীষ্মকালে পার্কটির পূর্বদিকে দাঁড়িয়ে জাতীয় কংগ্রেসের সভায় এসে তিনি ভাষণ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তৎকালিন জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান দ্বিজপদ চট্টোপাধ্যায় সভা স্থলটি স্মরণীয় করে রাখতে শিশুদের জন্য পার্ক গড়ে তোলেন। ওই সভাস্থলে তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তিও বসানো হয়। জঙ্গিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়েও তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেছিলেন। তারপর, নৌকায় গঙ্গা পেরিয়ে পুরভবনে যান। পরেব বছর ১৯৩৯ সালেও তিনি দ্বিতীয় বারের জন্য জাতীয় কংগ্রেসের সভায় জঙ্গিপুরে এসেছিলেন।
জঙ্গিপুরের বাসিন্দা পেশায় স্কুল শিক্ষক কৌশিক পাল বলেন, সুভাষচন্দ্র বসু জঙ্গিপুরের মাটিতে পা দিয়ে জঙ্গিপুরবাসীকে ধন্য করে গিয়েছেন। নেতাজির আদর্শ এবং তাঁর অন্তর্ধান রহস্য দেশবাসীকে জানানো উচিত। তাঁর জন্মদিনটি দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক। স্থানীয় ক্লাবের এক কর্মকর্তা সাগর সাহা বাপি বলেন, নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানাতে ও তাঁর আদর্শ তুলে ধরতে প্রতি বছরই ওইদিন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।