


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: কোনও জঙ্গল বা জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার আগে প্রথমেই মনে আসে মশা মারার কয়েল, তেল, ধূপ বা ওষুধপত্রের নাম। আগের মতো না হলেও এখনও উদ্বেগে বুকে কাঁপন ধরায় ‘জঙ্গল ম্যালেরিয়া’। যাঁরা জঙ্গলবাসী, তাঁদের জীবন দুর্বিষহ করে দেয় ‘ফরেস্ট ম্যালেরিয়া’।
এহেন ঘাতক ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশার নতুন প্রজাতি ‘আবিষ্কৃত’ হলো। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, ‘অ্যানোফিলিস ভেগাস’ নামের এই প্রজাতি আগে যে একেবারেই ছিল না, এমনটা নয়। তবে এই মশা যে মোটেই নিরীহ নয়, তার প্রমাণ ছিল না। বরং অ্যানোফিলিসের এই প্রজাতিটি ভাইভাক্স ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনে সক্ষম।
দেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা মাঝেমধ্যে বলতেন, ফরেস্ট ম্যালেরিয়ার নেপথ্যে অ্যানোফিলিসের আরও ৫-৬টি প্রজাতির পাশাপাশি এই প্রজাতিকেও সন্দেহের বাইরে রাখা উচিত নয়। কিন্তু সেই আশঙ্কার সপক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছিল না। বাংলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জেলা এবং রাজ্য এনটেমোলজি গবেষণাগারে পরীক্ষা করার পর দেশে প্রথম পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যদপ্তর প্রমাণ করল এই প্রজাতিও ম্যালেরিয়ার বাহক। দপ্তরের এক শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, শুধু তাই নয়, ফের যাচাইয়ের জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছিল এক নামকরা কেন্দ্রীয় গবেষণাগারেও। তারাও রাজ্যের রিপোর্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্যের বেশ কিছু জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখে সেখানে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর পতঙ্গবিদদের পাঠিয়েছিল। তাঁরা ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিসের চেনা প্রজাতিগুলির বদলে সেখানে পান অ্যানোফিলিস ভেগাসকে। জিনো মনিটরিং (পতঙ্গের কাটাছেঁড়া এবং অন্যান্য বিশ্লেষণ) এবং ধাপে ধাপে পরীক্ষা শেষে সেই আশঙ্কা সত্যি বলেই প্রমাণিত হয়।
স্বাস্থ্যভবনের পদস্থ সূত্রের খবর, এই ‘আবিষ্কার’-এর ফলে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় লড়াইয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। দেশের জাতীয় ম্যালেরিয়া নিশ্চিহ্নকরণ কর্মসূচির নজরদারির আওতায় আনা উচিত অ্যানোফিলিস ভেগাসকে। আগের মতো আর তাকে অবজ্ঞা করা মোটেই উচিত নয়।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গবিদ্যার গবেষক অর্ণব চক্রবর্তী বলেন, ২০০০-২০১৯ সালের মধ্যে দেশে যতজন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ফরেস্ট ম্যালেরিয়া। ভারতে প্রায় ৫৮ ধরনের প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশা পাওয়া যায়। তার মধ্যে মূলত ৬টি ম্যালেরিয়ার বাহক। সূত্রের খবর, অ্যানোফিলিস ফ্লুভিয়াটিলিস, অ্যানোফিলিস মিনিমাস, অ্যানোফিলিস কিউলিসিফেসিস প্রভৃতি প্রজাতি বাংলা সহ দেশের বিভিন্ন জঙ্গল এবং জঙ্গল অধ্যুষিত অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার কারণ। এইবার তাতে যুক্ত হল নতুন নাম অ্যানোফিলিস ভেগাস।