


পক্ষে
স্নেহা দাস
ইদানীং পৃথিবীর সর্বত্র সব ধর্মের মানুষের আনাগোনা। ফলে সব ধর্মের উৎসব নিয়েই এখন মানুষের মধ্যে খুবই উত্তেজনা। বাঙালি এখন শুধু নিজের উৎসবের আনন্দেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমান তালে অন্য ধর্মের উৎসবেও শামিল। বর্ষবরণ এখন লুপ্তপ্রায়। তার বদলে বাঙালির কাছে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্রী
তনিমা গোস্বামী (রায়চৌধুরী)
বর্তমান বাঙালি সমাজের মধ্যে অনেকেরই এখন নিউ ইয়ারকে ঘিরে তীব্র উন্মাদনা। নতুন প্রজন্মের বড় অংশ ইংরেজি মাধ্যমের পড়ুয়া হওয়ায় আজ অবাঙালি ধ্যান-ধারণার কাছে বাঙালি সংস্কৃতি তার কৌলিন্য হারিয়েছে। এখন ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই বাঙালি ইংরেজি নববর্ষ পালনের প্রস্তুতি শুরু করে দেয়।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা
কুন্তলা ঘোষ
কথায় কথায় ‘থ্যাঙ্ক ইউ’,আর ‘সরি’র বিচিত্র মেলায়, বাঙালিকে চেনাই বড় দায়। আমরা গর্ব ভরে বলতে ভালোবাসি আমার বাচ্চার বাংলাটা ঠিক আসে না। সেই আত্মগরিমা পালনের আতিশয্যে আপন করে নিই নিউ ইয়ারের হাতছানি। আলপনা আঁকা পাখার বাতাসে, পায়েসে, লাল পাড় সাদা শাড়িতে, বৈশাখীর আগমনের দিনক্ষণ ক্যালেন্ডারে খুঁজতে হয়।
সহকারী শিক্ষিকা
শ্রাবণী দত্ত
বর্তমান সময়ে ইংরেজি নিউ ইয়ার বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বায়ন ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে ৩১ ডিসেম্বরের কাউন্টডাউন, পার্টি, আতসবাজি ও সোশ্যাল মিডিয়ার উদযাপন তরুণ প্রজন্মকে বেশি আকৃষ্ট করছে। কর্পোরেট সংস্কৃতি ও মিডিয়া প্রচার ইংরেজি নববর্ষকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। ফলে পয়লা বৈশাখ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। স্নাতকোত্তর পড়ুয়া
বিপক্ষে
সাহিদ আফ্রিদি
নিউ ইয়ার আধুনিক জীবনের প্রয়োজনে বাঙালির কাছে একটি ‘অতিরিক্ত’ উৎসব হিসেবে জায়গা করে নিলেও, বাংলা নববর্ষ বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মূল ধারা। এটি হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির ধারক। তাই, একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে ‘আপন’ বলা কঠিন।
ছাত্র
শ্রীপর্ণা সরকার
নিউ ইয়ার এখন বাঙালির আপন, এমন ধারণা সঠিক নয়। তাহলে বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে, জামাকাপড় থেকে শুরু করে আসবাবপত্র, গয়নার ছাড়ের বিজ্ঞাপনে চারপাশ ভরে যেত না। ‘সেল’ এই বহুল প্রচলিত শব্দকে সঙ্গী করে মানুষের জিনিসপত্র কেনা থেকে শুরু করে নববর্ষের ভোরে স্নান করে নতুন জামাকাপড় পরে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করা, দুপুরে বাঙালি মেনুতে ভূরিভোজ আর সন্ধ্যায় হালখাতার চল এখনও রয়েছে।
শিক্ষিকা
আশালতা মহাপাত্র
নিউ ইয়ার নিয়ে মানুষ মেতে ওঠে মূলত অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য। বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে সেই উন্মাদনায় শামিল হয়। কিন্তু বাংলা নববর্ষ বাঙালির কাছে আজও আপন। সারা বছর বাংলা সাল, তারিখ মনে না রাখলেও পয়লা বৈশাখের দিনটি বাঙালি কখনও ভোলে না। সেদিন ভোরে পুজো দিয়ে সারাবছরের মঙ্গলকামনা করে বছর শুরু হয় বাঙালির। সংস্কার মেনে নববর্ষের দিনটিতে নতুন বস্ত্র পরার রীতিও রয়েছে বাঙালিদের মধ্যে।
গৃহবধূ
ডালিয়া দে
পশ্চিমবঙ্গের মতো বিশ্বের যেখানেই বাঙালি বসতি আছে সেখানেই বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ধুম আজও চোখে পড়ে বইকি। সত্যি কথা বলতে, যতদিন বাংলা ও বাঙালি জাতির অস্তিত্ব থাকবে ততদিন বাঙালির মননে ও মজ্জায় বাংলা নববর্ষ একান্ত আপন হয়েই থাকবে। নিউ ইয়ারের সাধ্য কি তাতে ভাগ বসায়? বাংলা নববর্ষই বাঙালির আপন। নিউ ইয়ার নয়।
গৃহবধূ