


নির্মাল্য রায়: আমি আর আমার মা এই দু’জনের সংসার। বাবা ব্যাঙ্কে কাজ করতেন। লোন নিয়ে একটা বাড়িও করেছিলেন। কিন্তু বাবার প্রস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে। অনেক খরচ হয়। বাবা যখন মারা যান, আমি তখন সবে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। রোজগার বলতে বাবার হাফ পেনশন। মা চাকরি করতেন না। কাজেই বাড়ির লোন শোধ করা সম্ভব ছিল না আমাদের পক্ষে। বারাকপুরের ওই বাড়ি বেচে নৈহাটির মন্দির পাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিলাম। আমার অফিস চুঁচুড়াতে। নদী পার হয়ে যেতে বেশি সময় লাগে না। এমনিতে এই পাড়ার মানুষজন বেশ ভালো। শহুরে আদব কায়দা তেমন ঢোকেনি এই পাড়ায়। কারওর বাড়িতে মাংস হলে পাশের বাড়ির বউদি বারান্দা থেকে চেঁচিয়ে বলে, ‘খুব গন্ধ বেরচ্ছে। যাব নাকি চেখে দেখতে?’ শুধু তাই কেন, এই পাড়ায় এখনও এক বাড়ির মাসিমা অন্য বাড়ির মাসিমার রোয়াকে বসে দুপুরে গল্প করে, চুল বেঁধে দেয়। দু’-তিনটে হাউজিং কমপ্লেক্স আছে। তারাও কিন্তু পাড়ার যেকোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। সে শীতের পিকনিক হোক বা রবীন্দ্রজয়ন্তী। রবিবারগুলো পাড়ার ক্লাবে ক্যারাম আর তাসের আসর বসে নিয়ম করে। আমাদের বাড়িওয়ালা প্রতুল নন্দী অবশ্য একা মানুষ। স্ত্রী গত হয়েছেন করোনায়। একমাত্র ছেলে চাকরি সূত্রে জার্মানিতে থাকে। আমি গত একবছরে তাঁর ছেলেকে দেখিনি। প্রতুলবাবুও এই এক বছরে কখনও জার্মানি যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি। সারা বছর নিজের মতো থাকেন প্রতুলবাবু। কিন্তু পুজোর ক’টা দিন ওর ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। প্যান্ডেল কেমন হবে, মূর্তির সাজসজ্জা কী হবে, কোন কোন দিন পাড়ার লোকজনকে কী কী খাওয়ানো হবে— এসব কিছু তাঁর অনুমতি ছাড়া হয় না। আসলে পাড়ার পুজো হোক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই পাড়ার মানুষজন এখনও বয়স্কদের উপর ভরসা রাখে। একবার নাকি ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জগন্ময়বাবুর কথা শুনে নবীনদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি।
দুই
সব কিছু বেশ ঠিকঠাক চলছিল। মা ছেলের সংসারে এখন একটাই আলোচ্য বিষয়। সেটা হল আমার বিয়ে। মা ব্যালকনিতে বসেই পাড়ার সব সুন্দরী মেয়েদের বায়োডেটা জোগাড় করে রেখেছে। মাকে কে বোঝাবে যে পঁচিশ হাজার মাইনে পাওয়া একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে বিয়ে করার জন্য কোনও সুন্দরী মেয়ে বসে থাকবে না। হয় তারা টাকাওয়ালা মানুষের বাগদত্তা হয়ে বসে আছে, নয়তো পাড়ার শাহরুখ-হৃতিকরা ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সেরে ফেলেছে। এই পাড়ার এমনই এক সুন্দরী মেয়ে তোর্সা। সে একদিন রাতে শুতে যাওয়ার সময় আয়নার সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিল। হঠাৎ সে খেয়াল করে আয়নায় আরেকজনের মুখ। যদিও চোখ দুটোই শুধু দেখা যাচ্ছিল। বাকি মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা। প্রথমে বেড়াল বলেই মনে হয়। মুহূর্তে ভুল ভাঙে। চোর চোর বলে চেঁচাতে থাকে তোর্সা। অবস্থা বেগতিক বুঝে দোতলা থেকে সোজা একতলার চানঘরের ছাদে লাফ দেয় সেই অপরিচিত। মেয়েটার মা-বাবা ছুটে আসে। বিশাল শব্দে পাশের বাড়ির লোকজন বেরিয়ে আসে। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে চম্পট দেয়। এরকম ঘটনা একবার নয়। বারবার ঘটতে লাগল পাড়ায়। মা ঠিকই বলে, ‘খোকা, যখন দেখবি সব ঠিকঠাক যাচ্ছে, বুঝবি বড়সড় কিছু বিপদ আসছে। ’ মায়ের জীবনে এত ঘনঘন উত্থান-পতন হয়েছে যে, মায়ের এরকম আশঙ্কা হওয়া স্বাভাবিক। সেদিন অফিস যাব বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। উল্টোদিকের পান-সিগারেটের দোকানের সামনে দেখি বেশ কিছু মানুষের জটলা। ভেবেছিলাম এড়িয়ে যাব, কিন্তু বাজখাঁই গলায় পিছু ডাকল তুষারদা।
—অফিস যাচ্ছ। যাও। পাড়ার অবস্থা খুব একটা ভালো না। কাল পল্টুদের বাড়ি থেকে সাইকেল চুরি হয়েছে। তার কয়দিন আগে দত্তদার বাড়ি থেকে নতুন জুতো জোড়া আর বাজার থেকে আনা মুরগি চুরি হয়েছে।
—ছিঁচকে চোর তার মানে।
—এই পাড়ায় এসব ছিল না। এই পাড়ার একটা সুনাম ছিল। শনিবার সন্ধে সাতটায় ক্লাবঘরে মিটিং ডেকেছি। প্রতুল মেসোমশাইও থাকবেন। এসো কিন্তু। তোমাদের মতো ইয়ং ছেলেদের আরও বেশি করে পাড়ার সব কাজে চাই। আমরা আর ক’দিন?
তিন
শনিবার ঠিক সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে গেলাম। লোকজন বেশ ভালোই হয়েছে। বুঝলাম দায়িত্ব নেওয়ার লোকের অভাব নেই। মিটিং শুরু হল। ক্লাবের সেক্রেটারি প্রস্তাব দিলেন এই পাড়ায় একটা নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কমিটি করা দরকার। কমিটির প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি ঠিক হয়ে গেল। তুষারদা বললেন, ‘এখন থেকে প্রতি রাতে দু’জন করে নাইট গার্ড দেবেন পাড়ায়। যাদের বয়স খুব কম মানে যারা স্কুলের গণ্ডি পেরয়নি, তাদের রাত জাগার দরকার নেই। আবার যাঁদের বয়স সত্তরের বেশি তাঁদেরও আসতে হবে না। বাকিরা আপাতত কাজ সামলাবে। পনেরো দিন অন্তর একবার হয়তো নাইট ওয়াচম্যানের ডিউটি পড়বে। আমাদের পাড়ার একটা সুনাম আছে। সেটা মাথায় রেখে কাজ করবেন। মদ্যপান করে কেউ ডিউটিতে আসবেন না।’
আমার কপালে পড়ল শনিবার। একদিকে ভালো। পরের দিন অফিস ছুটি। রাত দশটা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত ডিউটি। ক্লাবঘরে রেজিস্টার রাখা থাকবে। ওখানে সই করতে হবে। হুইসেল রাখা থাকবে দু’জনের জন্য দুটো। রাতে মাঝে মাঝে ওটাও বাজাতে হবে। সবসময় হাঁটতে হবে এমন নয়। ক্লান্ত হয়ে গেলে ক্লাবঘরে এসে একটু জিরিয়ে নিতে পারব। গলা ভেজানোর জন্য ফ্লাস্কে চা রাখা থাকবে। প্লাস্টিকের বোতলে জলও থাকবে।
চার
শীতের রাত। হনুমান টুপি, সোয়েটার, চাদর সবকিছু নিয়ে দশটা বাজার একটু আগেই পৌঁছে গেলাম ক্লাবঘরে। রেজিস্টারে সই করলাম। আমার সঙ্গে ডিউটিতে আছেন আভাস চৌধুরী বলে একজন। এর আগে তাঁর সঙ্গে কখনও আলাপ হয়নি। দেখলে হয়তো চিনব। দরজায় নক করলেন কেউ। এই বোধহয় আভাস এলেন। দরজা একটু খুলে দেখলাম, হাতে সিগারেট। সেই ধোঁয়া ঘরে ঢুকছে। লোকটি বললেন, ‘আমি আভাস। বাইরে এসো। সিগারেট আছে বলে ভিতরে ঢুকছি না।’ বেশ দৃপ্ত কণ্ঠস্বর।
আমি বাইরে এলাম। দু’জনে পাশাপাশি হাঁটছি।
—সিগারেট চলে?
—না।
—মদ খেতে বারণ করেছে, সিগারেট নয়।
—( হাসি ) সে জানি। আপনি কি এই পাড়ায় নতুন?
—না। না। আমি তো জন্ম থেকেই এই পাড়ায়। তোমরা তো নতুন এসেছ। তোমার হাতের আঁকা বেশ ভালো। দুর্গাপুজোর সময় দেখেছিলাম। সত্যজিতের তৈরি বিভিন্ন চরিত্রগুলো দারুণ এঁকেছ।
—মেসোমশাই বলেছিলেন বলে। আজকাল আর আঁকা হয় না। সময় পাই না।
—কে মেসোমশাই?
—বাড়িওয়ালা প্রতুলবাবু।
—ওহ। ওই বদমাশ বুড়োটা।
—সে কী! উনি তো খুব ভালো মানুষ।
—এই পাড়ার মানুষজনকে চিনতে তোমার দেরি আছে। নিজের বউকে বিনা চিকিৎসায় মেরেছে। করোনা হয়েছিল মাসিমার। ঘর বন্ধ করে রেখে দিয়েছিল যাতে বাতাসে করোনার জীবাণু না মেশে।
—কী বলছেন এসব? এত শিক্ষিত মানুষ।
—হ্যাঁ। পুলিশের বড়কর্তা ছিলেন। তাই তো সব অন্যায় করে এত সহজে চাপা দিতে পারেন। ওঁর ছেলে আসে বাড়িতে?
—না।
—আসবেও না। ওর বাড়ি কেউ ভাড়াও নিত না। নৈহাটিতে যারা থাকে, তারা কেউ ওর বাড়ি ভাড়া নেবে না। তাই তো এত কম টাকায় বাড়ি ভাড়া দেয়।
—হ্যাঁ। বাড়িভাড়া সত্যি খুব কম। কিন্তু তার পিছনে কোনও কারণ আছে?
—নিজের ছেলের বউকে পুড়িয়ে মেরেছে এই বুড়ো। ছেলে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল বেজাতের মেয়ে সুতপাকে। বুড়োর বিয়েতে মত ছিল না। কুণাল মায়ের মত নিয়ে লুকিয়ে বিয়ে করেছিল। বিয়ের একমাস পর বউকে নিয়ে এসেছিল বাড়িতে। তার ক’দিন পর কুণাল নতুন চাকরিতে জয়েন করে। জার্মানি যাওয়ার আগে বউকে বলে গেছিল, ‘আমি ওদিকটা গুছিয়ে আসি। তোমাকে কিছুদিনের মধ্যে নিয়ে যাব।’
—নিয়ে যায়নি?
—আর নেবে কোথায়? মাসিমা বড়মার মন্দিরে গেছিলেন পুজো দিতে। ফিরে এসে জানতে পারেন একতলার রান্নাঘরে সিলিন্ডার বাস্ট করেছে। বউয়ের সারা শরীর ঝলসে গেছে। তখন নাকি দোতলার ঘরে ঘুমচ্ছিল ওই বদমাশ বুড়োটা। কুণাল বাবার নামে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগও দায়ের করেছিল। আদালতে কিছু প্রমাণ করা যায়নি। মাসিমা সারা জীবন বুড়োটার অন্যায় মুখ বুজে সমর্থন করেছিলেন বলে তিনিও শাস্তি পেলেন শেষ বয়সে গিয়ে। এই বুড়ো ও পাবে খুব শিগগির।
—এই পাড়ায় চুরি চামারি কি আগেও হয়েছে?
—হয়নি আবার?
—কীরকম?
—গমকলের দোকানটা দেখেছ?
—ওটা তো বন্ধ।
—ওই দোকানে রতন নামে একটা ছেলে আর তার বাবা কাজ করত। রতনের মা ছোটবেলায় জলে ডুবে মারা গেছিল। ছেলেটার বাবার খুব বড় অসুখ হয়। ডাক্তার বলেছিল নার্ভের অসুখ। হাত পা কাঁপত। অনেকের কাছে হাত পেতে সাহায্য চেয়েছিল। কেউ সাহায্য করেনি। এই পাড়ার নাকি সুনাম আছে! মানুষের বিপদেই মানুষ পাশে দাঁড়ায় না। বাধ্য হয়ে এর ওর কাছে ধার নিত রতন। সেই ধার আর শোধ করতে পারত না। এদিকে বাবাকে নিয়ে রোজ হাসপাতালে দৌড়তে হচ্ছে। দোকানও ঠিকমতো চলে না। ব্যস। সর্বনাশের পথে পা বাড়াল রতন। রাতের বেলা এর ওর বাড়ি থেকে টাকা পয়সা, সোনাদানা, গোরু, মুরগি চুরি করতে শুরু করল। পুলিশও ধরতে পারছিল না প্রথমে। প্রতুল বুড়োর আঁতে লেগে গেল। ও নিজে পুলিশ ছিল, অথচ ওঁর পাড়াতেই এইসব কাণ্ড। সব কাজ ছেড়ে লেগে পড়লেন চোর ধরতে।
—ধরতে পারলেন?
—হাতেনাতে ধরতে পারেননি। কিন্তু ওর সন্দেহ হল যখন শুনলেন, মাসিমার কাছে নেওয়া ধারের টাকা রতন শোধ দিয়ে গেছে। মাঝরাতে ওর দোকানে অভিযান করল পাড়ার সবাইকে নিয়ে। একে একে টাকা, গয়না সব উদ্ধার হল। ওই যে ল্যাম্প পোস্ট দেখছ, ছেলেটাকে ওটায় বেঁধে সারা রাত ধরে মারল। সকালে পুলিশ এসে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সবাই জানল গণপ্রহারে মারা গেছে রতন।
—ওর বাবা?
—ছেলে মারা যাওয়ার পর আরও মাস খানেক বেঁচেছিল। অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় ক’দিন আর বাঁচবে?
ফোন বেজে উঠল আমার।
—খোকা, কোথায় তুই?
—এই তো ক্লাবের কাছেই।
—তুষার যে বলল তুই নাইট ডিউটিতে যাসনি। আমি কতক্ষণ ধরে ফোন করছি তোকে। তোর ফোন বন্ধ। বিশাল বিপদ হয়ে গেছে এদিকে। তুই সব কাজ ফেলে তাড়াতাড়ি আয়। বাড়ির সামনের ল্যাম্প পোস্টে কারা যেন প্রতুলবাবুকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। পাড়ার লোক জড়ো হয়ে গেছে বাড়ির সামনে। তুই তাড়াতাড়ি আয়। আমার খুব ভয় করছে।
ফোন রেখে দিল মা। আমি আভাসবাবুকে খবরটা দিতে যাব বলে ঘাড় ঘুরিয়েছি। দেখছি পিছনে কেউ নেই। ক্লাবঘরের সামনের রাস্তা দিয়েই তো হাঁটছিলাম আমরা, কিন্তু এই অন্ধকার গলিতে কী করে এলাম! কোথাও এতটুকু আলো নেই। সেই ল্যাম্প পোস্টটা কোথায় গেল? রাত বারোটা বাজে। কোথাও কোনও জনমানব নেই! ক্লাবঘরটা দেখতে পাচ্ছি না কেন? আভাসবাবু কোথায় গেলেন? আমার গলা শুকিয়ে আসছে। আমি প্রাণভয়ে ছুটতে লাগলাম। কিছুতেই আমার বাড়ির রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি পাগলের মতো ছুটছি। আমার পেছনে তো কেউ তাড়া করছে না! তাহলে আমি কাকে ভয় পাচ্ছি? আমাকে যে মায়ের কাছে পৌঁছতে হবেই।
পাঁচ
জ্ঞান ফিরতে দেখলাম, সকাল হয়েছে। আমার চারপাশে অনেক মানুষের ভিড়। রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়েছিলাম সারা রাত। সেখান থেকে তুলে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তুষারদা দেখতে এসে বললেন, ‘তুমি নাইট ডিউটিতে বেরিয়ে কোথায় চলে গেছিলে? সুকুমারদা তো তোমাকে খুঁজেই পাচ্ছিল না। তোমার ফোনও পাওয়া যাচ্ছিল না। তার উপর এত বড় একটা বিপদ হয়ে গেল কাল তোমার বাড়িতে!’
—আমি তো আভাসবাবুর সঙ্গে ছিলাম।
—সেটা আবার কে? তোমার তো ডিউটি ছিল সুকুমারদার সঙ্গে।
—আমি যে রোস্টারে দেখলাম আভাস চৌধুরীর নাম।
আমাকে রোস্টারের স্কিনশট দেখিয়ে তুষারদা বুঝিয়ে দিল ভুল আমার হচ্ছে, ওর নয়।
আভাস নামে এই পাড়ায় কেউ থাকে না। থাকতও না কোনওদিন। তবে ওর বলা প্রতিটা গল্পই সত্যি। তাহলে আভাস মানে কি ছায়া? ছায়াময়? আভাস কি তাহলে প্রতুলবাবুর স্ত্রী, পুত্রবধূ কিংবা রতনের মতো মানুষদের প্রতিনিধি? সমাজের অন্ধকার জগতের নাইট ওয়াচম্যান? ওই কি তাহলে প্রতুলবাবুকে মেরে ঝুলিয়ে দিল এইভাবে? অন্ধকারে মুখটাই যে ভালো করে দেখা হয়নি লোকটার।
নৈহাটির মন্দিরপাড়া ছেড়ে আমরা এখন চুঁচুড়ায় চলে এসেছি বছর খানেক হল। কিন্তু শুনেছি, প্রতুলবাবু খুনের ঘটনায় এখনও কেউ ধরা পড়েনি।