


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটার কার্ড ছাপা হয়েছে। অথচ ভোটারের কোনও হদিশ নেই! রাজ্যজুড়ে সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটার কার্ড ছাপা হলেও তা গ্রহণ করার কেউ নেই। আবেদন অনুযায়ী ভোটার কার্ডগুলি ছাপার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেসব নেওয়ার কেউ নেই। স্বভাবতই ফেরত আসছে সেগুলি।
নির্বাচন কমিশনের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে আবেদন জানানোর পর ১৫ দিনের মধ্যে পোস্ট অফিস মারফত ভোটার কার্ড হাতে পাবেন ভোটাররা। সম্প্রতি শুধুমাত্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই এই ধরনের ৩০০টি কার্ড পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেগুলি ‘নো রিপ্লাই’ হয়ে ফেরত এসেছে। নিরুপায় ডাকবিভাগ সেগুলি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পরই সমস্ত জেলার কাছে তথ্য তলব করেছিল সিইও অফিস। আর তাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে এমন ভোটার কার্ডের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ। সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘কার্ডগুলি নির্দিষ্ট ঠিকানায় আরও একবার পাঠানো হবে। তারপরও প্রকৃত গ্রহীতা না মিললে সেগুলি ২০ আগস্ট থেকে সিইও অফিসে পাঠাবেন জেলাশাসকরা।’
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন সরস্বতী প্রেসে ভোটার কার্ড ছাপার পর, তা সরাসরি চলে যাবে কলকাতা জিপিও’তে। এরপর সেখান থেকেই রাজ্যের সব প্রান্তেই মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ভোটারের ঠিকানায় চলে যাবে। অর্থাৎ ভোটার কার্ড পৌঁছে দেওয়ার গোটা প্রক্রিয়াটিই পরিচালনা করছে ডাকবিভাগ। এদিকে, রাজ্যের দুই ডব্লুবিসিএস অফিসার তথা ইআরও’কে বরখাস্ত করার কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে চিঠি দিয়েছে ডব্লুবিসিএস এগজিকিউটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, কমিশনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মুখ্যসচিব হস্তক্ষেপ করুন।