


একান্ত এক আড্ডায় নানা মেজাজে ধরা দিলেন অভিনেতা অনুপম খের।
মুক্তির অপেক্ষায় ‘তনভি দ্য গ্রেট’। এই ছবির আইডিয়া কোথা থেকে পেলেন?
আমার ভাইজির অটিজিম আছে। ওকে দেখে এই ছবির কথা ভেবেছিলাম। একদিন ও আকাশের দিকে তাকিয়েছিল। আমি ওকে প্রশ্ন করি, কী দেখছ? ওর উত্তর ছিল, ‘বিশ্বকে দেখছি’। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একজন অটিস্টিক মানুষের কল্পনা শক্তি এরকম হতে পারে!
এই ছবির লেখক, পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা আপনি। একসঙ্গে এত দায়িত্ব পালন করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
চ্যালেঞ্জ নয়। আমি ‘তনভি’-র জার্নিটা একটা প্রসেস হিসেবে দেখেছি। এটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম।
২৩ বছর পর পরিচালনায় ফিরলেন, এত সময় লাগল কেন?
আবার পরিচালনা করতেই হবে, এমন ইচ্ছে ছিল না আমার। আমি জীবনে এমন সব কাজ করেছি, যা বাকিরা করেননি। ২৮ বছর বয়সে আমি ৬৫ বছরের বৃদ্ধর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ইন্ডাস্ট্রিতে যে ‘টাইপ কাস্ট’-এর প্রথা ছিল, আমি তা ভেঙেছি। ফলে বিনোদনমূলক কাজেই ব্যস্ত থেকেছি।
ছবির মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়?
নিশ্চয়ই। তবে কোনও সামাজিক বার্তা বিনোদনের মাধ্যমে সমাজের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কারণ সিনেমা দেখার পর কেউ বিষণ্ণ হতে চান না।
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মেট্রো ইন দিনো’ ছবিতে আপনাকে কলকাতার পথে দেখা গিয়েছে। কলকাতা কেমন লাগল?
কলকাতা আমাকে সবসময় আপন করে নিয়েছে। ‘সারাংশ’ থেকে শুরু করে আজও কলকাতার কাছ থেকে আমি ভালোবাসা পাই। কলকাতার খাবারের কথা আর আলাদা করে কী বলব? আলু পোস্ত, ফুচকা সবকিছুই দুর্দান্ত।
কেরিয়ারের শুরুর দিকে অভিনেতা হিসেবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন?
মাথায় চুল ছিল না বলে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতাম (হাসি)। হিন্দি ছবিতে ভালো হেয়ার স্টাইল জরুরি। আমাকে সকলে বলতেন, মাথায় টাক, আমি কী করে অভিনেতা হব? তবে সৌভাগ্যক্রমে চুল না থাকার জন্য আমি ‘সারাংশ’-এর মতো সিনেমায় সুযোগ পেয়েছিলাম!
আপনার অভিনীত ছবির সংখ্যা ৫৪০ পেরিয়েছে, নিজেকে এখন ‘পারফেক্ট’ মনে করেন?
এখনও নিজেকে অসম্পূর্ণ বলে মনে করি। মানুষ যেদিন নিজেকে ‘পারফেক্ট’ বলে মনে করবে, সেদিন শেষ হয়ে যাবে। অপূর্ণতা মানুষকে উন্নত হতে সাহায্য করে।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই