


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তারপর থেকেই দেশে এলপিজি সংকট জোরালো হয়। গ্রাহক যাতে যথেচ্ছভাবে বুকিং করতে না পারেন, তার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। জোরালোভাবে রাশ টানা হয় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বিক্রিতেও। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল দাবি করল, দেশে এলপিজির ডেলিভারি প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গৃহস্থের কাছে গড়ে ২৮ লক্ষ সিলিন্ডার ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে, যা প্রায় আন্তর্জাতিক সংকটের আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছে। ৮৭ শতাংশ ক্ষেত্রে বুকিং হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। অর্থাৎ মোবাইল বুকিং, এসএমএস বা অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং হয়েছে। ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড বা ডিএসি ওটিপির মাধ্যমেই সিলিন্ডারগুলি ডেলিভারি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে বহু গ্রাহক সময়ে সিলিন্ডার ডেলিভারি না পেয়ে হয় সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, অথবা সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন দপ্তরে। সেগুলি খতিয়ে দেখতে এবং গ্রাহককে সুরাহা দিতে পদক্ষেপ করা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল। তারা বলছে, এগুলির সত্যতা যাচাই করতে প্রায় সাড়ে সাত হাজারটি ডিস্ট্রিবিউটরশিপে সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়েছে। ১৪১টি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পাঁচটিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিষেবা চালু রাখতে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল। তাদের দাবি, কোথাও বেআইনিভাবে সিলিন্ডার মজুত করা হচ্ছে কি না, বা সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে দেশে এই কদিনে ৬৮ হাজার জায়গায় হানা দেওয়া হয়েছে এবং মোট ৮৫৫টি এফআইআর করা হয়েছে। ৪৮ হাজার সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাটি।
তেল সংস্থাটির এই দাবির সঙ্গে অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকের অভিজ্ঞতা মিলছে না। তাঁদের একাংশ দাবি করেছেন, তাঁরা সিলিন্ডার বুকিংয়ের দিনকয়েক পরই ডেলিভারি পেয়েছেন। আবার একাংশের দাবি, বুকিংয়ের পর ১০ দিন কেটে গেলেও ডেলিভারি হয়নি। পাশাপাশি বুকিং সংক্রান্ত সমস্যাও যে জিইয়ে রয়েছে, তা জানাচ্ছেন গ্রাহকদের একটা বড়ো অংশ। তাঁরা বুকিয়ের চেষ্টা করার পর, আদৌ বুকিং হল কি না, তা স্পষ্ট হচ্ছে না। বুকিংয়ের পর যে চেনা এসএমএস দেখতে তাঁরা অভ্যস্ত, তা মিলছে না। ফলে অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই তাঁদের অনেকে ছুটে যাচ্ছেন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটেরর কাছে। মোট কথা, সরকারি সংস্থা সবকিছু ঠিকঠাক চলার দাবি করলেও, পরিস্থিতির উন্নতি খুব একটা হয়নি, এমনই অভিজ্ঞতা গ্রাহকদের একটা বড়ো অংশের। -ফাইল চিত্র