


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মাত্র ১লাখ টাকা পুঁজি থাকলেই হোম স্টে গড়ে বছরে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা রোজগারের সুযোগ আদিবাসীদের। এই রকমই এক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। কেউ একা ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে না পারলে বা হোম স্টে গড়ার জমি না থাকলে, চার-পাঁচজন মিলেও তা করতে পারবেন। একটি দু’কামরার হোম স্টে গড়তে খরচ হবে ১০লক্ষ টাকা। এক লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে নামলে বাকি ৯লাখ টাকা সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণ পেতে রাজ্য সহযোগিতা করবে। বাঁকুড়ার সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে আদিবাসী যুবক যুবতীদের এই প্রকল্পে অংশ নিতেআহ্বান জানানো হয়েছে।
বাঁকুড়া জেলা এসসি,এসটি,ওবিসি উন্নয়ন ও ফিনান্স কর্পোরেশনের আধিকারিক সন্টু দাস বলেন, আমাদের দপ্তরের হোম স্টে প্রকল্পটি খুব ভালো। উদ্যোগীদের ১ লাখ টাকা পুঁজি এবং হোম স্টে গড়ার জমি থাকলেই তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। জেলায় যেসব ব্লকে পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। সেইসব ব্লকের আমাদের দপ্তরে আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট বিডিওর মাধ্যমে আবেদন জেলায় এলে প্রকল্প মঞ্জুরের জন্য আমরা তা রাজ্যে পাঠিয়ে দেব। তারপর পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রকল্পে কোনও অনুদান না থাকলেও স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণপেতে সহযোগিতা করা হবে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পর্যটকদের মধ্যে হোম স্টে জনপ্রিয় হচ্ছে। তাঁরা হোম স্টেতে ঘরোয়া পরিবেশ থাকতে এবং ঘরোয়া খাবার খেতে পছন্দ করছেন। বাঁকুড়া জেলায় মুকুটমণিপুর, শুশুনিয়া, বিষ্ণুপুর, জয়পুর, তালডাংরার ঘাঘর সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের আদিবাসী বাসিন্দারা হোম স্টে তৈরি করে যাতে স্বনির্ভর হতে পারেন তার জন্য রাজ্য সরকার এই প্রকল্পটি চালু করেছে। প্রকল্পের খরচ এবং আয়ের হিসেব সম্পর্কিত একটি প্রজেক্ট রিপোর্টও প্রতিটি ব্লকে পাঠানো হয়েছে। ইচ্ছুক যুবক যুবতীরা তা দেখে নিজেরাই আয় ও ব্যয় সহজেই বুঝতে পারবেন। ওই প্রজেক্টের হিসেব অনুযায়ী, বছরে ১৫০দিন দু’টি রুমে কমপক্ষে তিনজন করে পর্যটক থাকলে সাড়ে ৪লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। অর্থাৎ মাসে প্রায় সাড়ে ৩৭হাজার টাকা আয় হবে। এব্যাপারে দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুকুটমণিপুর জলাধার। -নিজস্ব চিত্র