


নয়াদিল্লি: বেশি খরচে রিওয়ার্ড। কেনাকাটা ও ভ্রমণের খরচে ডিসকাউন্ট। সহজে ঋণ। লাউঞ্জ বেনিফিট। সঙ্গে আরও নানান সুবিধা। এসবের হাত ধরে দেশে গত কয়েক বছরে হু হু করে বেড়েছে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা। তার উপর মোদি জমানায় ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, রুজি রোজগার হ্রাসের ধাক্কায় জেরবার মধ্যবিত্ত ক্রেডিট কার্ডের দিকে ঝুঁকেছে। ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার করে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা বেড়েছে। কিন্তু ঋণ শোধের পালা এলেই বাড়ছে বিড়ম্বনা। ‘অন্তহীন’ মাসিক কিস্তির জালে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। এর জেরে বাড়ছে ঋণ খেলাপ অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ। ক্রেডিট কার্ডে অনাদায়ী ঋণ (এনপিএ) গত বছরের তুলনায় এক ধাক্কায় ২৮.৪২ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই খাতে এনপিএ-র পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
এই তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড ক্ষেত্রে এনপিএ ছিল ৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এক বছরে তা বেড়েছে আরও দেড় হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধ্যের অতিরিক্ত খরচ, কাজ হারানো, রোজগার কমে যাওয়ার মতো কারণে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া মেটাতে পারছেন না লোকজন। আর কিস্তির টাকা বাকি পড়লেই তার উপর চাপছে উচ্চহারে সুদ। এই চক্রবৃদ্ধি সুদের চাপ আরও আর্থিক সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে মধ্যবিত্তকে। আরবিআই তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ক্রেডিট কার্ডে মোট বকেয়া ঋণ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ২.৯২ লক্ষ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২.৩ শতাংশই এনপিএ। এক বছর আগে মোট বকেয়া ঋণ ২.৫৩ লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে এনপিএ ছিল ২.০৬ শতাংশ।
দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে ক্রেডিট কার্ডে ঋণ খেলাপের হার অনেকটাই বেড়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের ১ হাজার ১০৮ কোটির তুলনায় চার বছরে তা ৫০০ শতাংশ বেড়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য হল, ব্যাঙ্কের সামগ্রিক এনপিএ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ৫ লক্ষ কোটি টাকা (মোট ঋণের ২.৫ শতাংশ) থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ৪.৫৫ লক্ষ কোটি টাকা (২.৪১)। কিন্তু সেখানে ক্রেডিট কার্ডে ঋণ খেলাপের হার বৃদ্ধিতে আম জনতার আর্থিক দুর্দশার
ছবিই ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা পরপর তিন মাস কিস্তির টাকা দিতে না পারলে সেই ঋণ এনপিএ হিসেবে গণ্য করা হয়। বকেয়া পাওনার উপর বছরে ৪২-৪৬ শতাংশ সুদ চাপে। ঋণ গ্রহীতার ক্রেডিট স্কোরও ধাক্কা খায়।