


আমেদাবাদ: গুজরাতের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কিছুটা দূরেই বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৪২ জনকে নিয়ে সেখানেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১। হস্টেলের উপরে বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় অন্তত ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর। এর মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন বর্ষের মোট পাঁচজন মেডিক্যাল পড়ুয়া। তাঁদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গিয়েছে। মৃত রাকেশ দিওরিয়া বিজে মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি গুজরাতের ভাবনগরের বাসিন্দা। মৃত্যু হয়েছে দু’জন শিক্ষার্থী চিকিৎসকের (পোস্ট ডক্টরাল ট্রেনি)। এদিন দুপুরে হস্টেলে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন অভিভাবকও। বিমান দুর্ঘটনার জেরে জখম হয়েছেন একাধিক পড়ুয়া। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। পড়ুয়াদের দু’জনের ফুসফুস ও একজনের পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। যদিও বেসরকারি সূত্রে দাবি, এই ঘটনায় মেডিক্যাল হস্টেলে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের দুপুর। ক্লাস শেষে দুপুরে হস্টেলের মেসে খেতে বসেছিলেন মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়ারা। আচমকাই বিকট শব্দে চমকে ওঠেন তাঁরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা হস্টেল। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গিয়েছে, বহু বেঞ্চ ভেঙে গিয়েছে। টেবিলে পড়ে থালা-গ্লাস। ছড়িয়ে ছিটিয়ে খাবার। সবকিছু ঢেকেছে মোটা ধুলোর চাদরে। গোটা মেস তছনছ হয়ে গিয়েছে। বিমানের ধাক্কায় ভেঙে গিয়েছে মেসের দেওয়াল। সেখানে আটকে রয়েছে বিমানের ভাঙা অংশ, চাকা। বিধ্বস্ত অবস্থা মেসের রান্নাঘরেরও।
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বহু পড়ুয়া খাচ্ছিলেন। বিমান আছড়ে পড়তেই অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে উপর থেকে নীচে ঝাঁপ দেন। জখম ছেলের সঙ্গে দেখা করতে আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রোমিলা বেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দুপুরবেলা খাবার খেতে হস্টেলে গিয়েছিল। ঠিক তখনই বিমানটি সেখানে ভেঙে পড়ে। আতঙ্কে দোতলা থেকে লাফ দেয় সে। ওর চোট লেগেছে। তবে এখন নিরাপদে আছে।’