


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষাদপ্তরের সম্মতি পেলে আগামী বছর থেকে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব সরতে পারে জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজাম বোর্ডের হাত থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-আধিকারিকদের হাতেই ফের ন্যস্ত হতে পারে সেই দায়িত্ব। এ বছর ওবিসি জটিলতা এবং হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের কারণে প্রেসিডেন্সির স্নাতক স্তরের প্রবেশিকার (পাবডেট) ফল নির্ধারিত দিনে ঘোষণা করতে পারেনি জয়েন্ট বোর্ড। কবে তা হবে, এখনও জানা যাচ্ছে না। এমনকী, ৮ আগস্ট থেকে স্নাতকোত্তরের প্রবেশিকা পামডেট-এর আবেদন শুরুর কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ফেরানোর দাবি ফের জোরালো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তরফে অ্যাডমিশন কমিটিকে আগেই এই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। একই দাবি পাঠানো হয়েছে রাজভবন এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও। আসরে নেমেছেন প্রাক্তনীরাও। খোদ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সাক্ষাতের সময় চেয়েছে প্রাক্তনী সংসদ। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষকদের চাপ কমাতে এই প্রবেশিকার দায়িত্ব শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশেই ‘আউটসোর্স’ করা হয় জয়েন্ট বোর্ডকে। তবে, প্রথম থেকেই এই বাড়তি দায়ভারে সন্তুষ্ট ছিল না তারা। অসন্তোষ তৈরি হয় প্রেসিডেন্সির মধ্যেও। তবে, এই ব্যবস্থা চলছিল। শিক্ষকদের দাবি, প্রেসিডেন্সি মূলত একটি লিবারাল আর্টসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাতে এমসিকিউ ভিত্তিক প্রশ্নে মান যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রেসিডেন্সির শিক্ষকরাই পড়ুয়াদের গড়েপিটে তৈরি করেন। তাই এই স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে তাঁদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। অনেক শিক্ষকই মনে করেন, প্রেসিডেন্সির ঐতিহ্য, রীতিনীতির সঙ্গে কোয়েশ্চেন সেটারদের অনেকেই ওয়াকিবহাল না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। সঠিক মানের ছাত্রছাত্রী পাচ্ছে না এই বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্রের খবর, এই দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে চায় জয়েন্ট বোর্ডও। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ফের দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষে। তবে, বিষয়টি ঝুলে রয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সবুজ সঙ্কেতের উপরে। তাই প্রাক্তনীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর (যিনি নিজেও প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী) বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অবশ্য, এ নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মনোভাবও জানা প্রয়োজন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই জয়েন্ট বোর্ডকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের।