


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চমক দিতে নিজেদের সরকারকে ‘রিফর্মস এক্সপ্রেস’ বলে তো দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে খুশি করতে অশ্বিনী বৈষ্ণব থেকে জিতেন্দ্র সিং, প্রহ্লাদ যোশি, কিরেণ রিজিজুর মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের গলাতেও একই সুর। কিন্তু আদতে রিফর্ম বা সংস্কার কী হয়েছে, তার তালিকা কই? খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটই এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। তাই এ ব্যাপারে সব মন্ত্রককে তৈরি করতে বলা হয়েছে রিপোর্ট। ফলে সব মন্ত্রকেরই ঘুম ছুটেছে। তড়িঘড়ি আজ সোমবার বিশেষ বৈঠকে বসছেন সচিবরা।
স্রেফ প্রকল্পে ফিতে কেটেই হবে না। বাস্তবে তার কতটা কী হয়েছে? সেগুলির মধ্যে রিফর্মস তথা সংস্কার বলে সামনে আনা যাবে, এমন সব কাজের ফিরিস্তি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই মতো ক্যাবিনেট সচিবালয় থেকে সব মন্ত্রকের কাছে চাওয়া হয়েছে এই তালিকা। সঙ্গে দিতে বলা হয়েছে দু’ পাতার বিশেষ নোট। যা সামনে রেখে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রত্যেক মন্ত্রী পেশ করবেন তাঁর মন্ত্রকের রিফর্মস রিপোর্ট। গত ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে কোন মন্ত্রকে বড়সড় কী সংস্কারমূলক কাজ হয়েছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে।
হেরিটেজ সাউথ ব্লক থেকে এখন নতুন অফিসে উঠে গিয়েছেন মোদি। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটও স্থানান্তরিত হয়েছে সেখানে। ‘সেবা তীর্থ-নাগরিক দেব ভবঃ’ নামে নতুন ওই অফিসেই বসেছিল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেখানেই মোদি শপথ নিয়েছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে বিকশিত ভারতে পরিণত করবেনই। তার জন্য নেওয়া হয়েছে তিন পাতার সংকল্প শপথ। এবার সেটিই সব মন্ত্রকের সচিবদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা।
২০২৪ সালের ৯ জুন তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তাই তাঁর তৃতীয় ইনিংসে গত ২১ মাসে কী কাজ হয়েছে, তার তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটের সেই নির্দেশিকায় দেখা যাচ্ছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন, চব্বিশের জুন থেকে কোন মন্ত্রকে বড়সড় কী সংস্কার হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি ‘এক্সিকিউটিভ সামারি’ তৈরি করতে হবে। আজ ২ মার্চ তার একটি খসড়া ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটে পাঠাতে হবে।
অন্যদিকে, স্রেফ মন্ত্রীরাই সেবা তীর্থের সংকল্প শপথ পাঠ করেই ক্ষান্ত হলে হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে পিএমও। সমস্ত মন্ত্রকের আধিকারিকদেরও ওই সংকল্প শপথ প্রস্তাব পাঠ করতে হবে। আজ সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের দপ্তরে দপ্তরে তা পাঠ হবে। কোন দপ্তরে কারা কারা সেই সংকল্প পাঠ করলেন, কীভাবে তা পালন হল, তার একটি রিপোর্টও আগামী কালের মধ্যে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটে লিখিতভাবে সব মন্ত্রকের সচিবকে জানাতে হবে। ফলে হোলির ছুটির মেজাজ মাথায় উঠেছে মন্ত্রকের।