


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হোমগার্ড, এনভিএফ-সহ সহযোগী পুলিস কর্মীরা, পুলিসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নেই। জরুরি চিকিৎসা বা অন্যকোনও সমস্যা দেখা দিলে টাকা জোগাড় করতে রীতিমতো কালঘাম ছোটে তাঁদের। সেই কারণেই তাঁদের জন্য পিএফ কাটার প্রস্তাব দিয়ে নবান্নে প্রস্তাব পাঠাল রাজ্য পুলিসের ওয়েলফেয়ার কমিটি। একইসঙ্গে অবসরের পর তাঁরা যাতে নিজেদের প্রাপ্য সময়মতো পান, সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।
পুলিস কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিস ওয়েলফেয়ার কমিটি এবং কলকাতা পুলিস ওয়েলফেয়ার কমিটি তৈরি করে দেন। কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পান ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। সূচনালগ্ন থেকে এই ছ’বছরে ওয়েলফেয়ার কমিটির উদ্যেগে সিভিক ভিলেজ পুলিস-সহ সহযোগী পুলিস কর্মীদের ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি, অবসররের পর এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারের একজনের চাকরি-সহ পাঁচ লক্ষ টাকা প্রদানের মতো দাবি মেনেছে সরকার। ওয়েলফেয়ারের কর্তাদের নজরে এসেছে হোমগার্ড, সিভিক, ভিলেজ পুলিস-সহ সহযোগী পুলিস কর্মীদের কোনও পিএফ নেই। অথচ তা অত্যন্ত জরুরি। কারণ পিএফ চালু করা গেলে বাধ্যতামূলকভাবে তাঁদের নামে কিছুটা টাকা সঞ্চয় হবে। বিপদে পড়লে ওই তহবিল থেকে টাকা তুলে তাঁরা সমস্যা মেটাতে পারবেন। পুলিস কর্মীদের মতো জিপিএফ চালু না করা গেলেও এক্ষেত্রে ইপিএফ চালুরই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে সহযোগী পুলিস কর্মীদের বেতন থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কাটার পাশাপাশি সরকারও সমপরিমাণ টাকা দেবে। এতে অবসরের সময় তাঁরা মোটা টাকাই পাবেন। স্বরাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো ওই প্রস্তাবে সহযোগী পুলিস কর্মীদের সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পিএফ চালু করা গেলে সিভিক, হোমগার্ড, এনভিএফ-সহ দেড় লক্ষ সহযোগী পুলিস কর্মী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও পুলিস কর্মীদের নিজের জেলায় পোস্টিং কোন অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হল, ২০২৪ থেকে তাই নিয়ে সরব হয়েছে ওয়েলফেয়ার কমিটি। এমনকী, সরাসরি নিযুক্ত সাব-ইনসপেক্টররা পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিস সুপার বা পুলিস সুপার হতে পারেন। তার জন্য আলাদা কোটার দাবি তুলেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার ওয়েলফেয়ার কমিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বাষির্কী সমস্ত ইউনিটে সাড়ম্বরে পালিত হয়। ওয়েলফেয়ার কমিটি কী কী দাবি আদায় করতে পেরেছে এবং আগামী দিনে পুলিস কর্মীদের কোন কোন সমস্যার সমাধানে জোর দেওয়া হচ্ছে, তুলে ধরেন আধিকারিকরা।