


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্বজুড়ে দুর্গাপুজোর আয়োজন কম হয় না। প্রতিবছরই আমেরিকা বা লন্ডন, জার্মানি বা ফ্রান্স বা ইতালি, সর্বত্র কোনও না কোনও জায়গায় প্রবাসী বাঙালি কিংবা প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্যোগে সর্বজনীন দুর্গোৎসব হয়। কিন্তু সর্বজনীন কালীপুজো বা দীপাবলি উৎসব পালনের কথা খুব একটা শোনা যায় না। সেখানেই ব্যতিক্রম ‘উচ্ছ্বাস নেদারল্যান্ড’।
দ্য নেদারল্যান্ডসের ইন্ডিয়ান কালচার কমিটির উদ্যোগে গত দু’বছর ধরে হচ্ছে সর্বজনীন কালীপুজো এবং আলোর উৎসব। রবিবার, কুদেলস্টার্টসিওয়েগ ওডিয়ামে হয়েছে পুজো। শ্রেয়সী দণ্ড, রাহুল রক্ষিত, সৌরভ এবং সনিকা দে, সুমনা ও অর্ণব মণ্ডল, তুহিন মিত্র এবং অঙ্কিতা মণ্ডলদের চার পরিবার ২০২৪ সালে শুরু করেছিল পুজো। নেদারল্যান্ড বা বেনেলুকস এরিয়াতে শুরু হওয়া সেই কালীপুজো হয়ে উঠেছে সত্যিকারের সর্বজনীন। বহু মানুষের উৎসবের ক্ষেত্র। শ্রেয়সীদেবী বলেন, ২০২৪ সালের আগে থেকেই মনে ভাবনা এসেছিল কালীপুজো করব। মা ভবতারিণীকে সর্বজনীন করে তুলব নেদারল্যান্ডসের মাটিতে। অনেকগুলি দুর্গাপুজোর মাঝে কালীপুজো প্রচার পাবে। তারপর যেমন ভাবা তেমন কাজ। তিন বন্ধুর পরিবারকে জানালাম। তাঁরাও সঙ্গে সঙ্গে রাজি। তারপর কুমোরটুলিতে শিল্পী জয়ন্ত পালের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম আমরা। ঠাকুরের উচ্চতা, গড়ন কেমন হবে, গয়না কী হবে, সেসব নিয়ে খুঁটিনাটি নিয়মিত কথা হত শিল্পীর সঙ্গে। তারপর প্রতিমা তৈরি শেষে বিমানে করে মা এসে পৌঁছল নেদারল্যান্ডসে। সেই থেকেই বেনেলুকস এরিয়াতে (লুকজেমবার্গ, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডস) সর্বজনীন কালীপুজোর সূচনা। কিন্তু এখন সেই উচ্ছ্বাস আর চারটি পরিবারের মধ্যে সীমিত নেই। তা আরও বড় হয়ে উঠেছে। এই উচ্ছ্বাস পরিবারের পৌরহিত্য করে বেলজিয়ামের ভট্টাচার্য দম্পতি, নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ডঃ লিপিকা ভট্টাচার্য। তাদের কারণেই অন্যরকম পূজোর অনুভূতি পেতে দূর দূর থেকে লোকজন আসেন। পুজোয় তাদের ইউনিক টেকনিক সবাইকে মুগ্ধ করে তোলে। কালীপুজোর মাহাত্ম্য প্রচার পায়।
চলতি বছর দ্বিতীয় বর্ষ নেদারল্যান্ডসের এই কালীপুজোর। দক্ষিণেশ্বরের আদলে মা ভবতারিণীর মূর্তি। উদ্যোক্তারা জানান, গতবছর প্রায় ৪০০ লোক হয়েছিল পুজোয়। এবছর আরও অনেক বেশি ভক্ত সমাগমের আশা। কারণ পুজো দেখা, প্রসাদ খাওয়া থেকে শুরু করে আনন্দ উৎসবের ক্যাম্পাসে ঢোকার জন্য কোনও টিকিট নেই। পুরোটাই বিনামূল্যে। শ্রেয়সী দণ্ড আরও বলেন, মাতৃপ্রতিমা দর্শন থেকে দীপাবলি বা দিওয়ালি ইভেন্ট সকলেই বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারেন। আগে থেকে রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে ৩০০ জনকে বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এই পুজোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ডোনেশন চাই। সকলেই তাঁদের সাধ্যমত অনুদান দেন। আমাদের ইভেন্টে রঙ্গোলি কম্পিটিশন থেকে শুরু করে, ম্যাজিক শো, লাইভ মিউজিক কনসার্ট, ডান্স ড্রামা, বাচ্চাদের নাচ, গান, স্ট্যান্ড আপ কমেডি শো ইত্য্যাদি নানা রকমের আয়োজন করে থাকি। পুরোটাই বিনামূল্যে। এর বাইরেও দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য থাকে নানা ধরনের ফুড স্টল। সেখানে স্ন্যাক্স এবং ডিনার পাওয়া যায়। চাইনিজ থেকে শুরু করে বাঙালি, সাউথ ইন্ডিয়ান, বিদেশি সহ সব রকমের খাবার থাকে। কিন্তু কিনে খেতে হয়। তাছাড়াও বাড়িতে তৈরি মোমবাতি থেকে শুরু করে শাড়ি, মেহেন্দি স্টল সহ নানা ধরনের স্টল রাখা হয়।