


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েকদিন আগে বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে পূর্তবিষয়ক আলোচনা চলছিল। তখন একাধিক বিধায়ক বর্ষার আগে তাঁদের এলাকার বেহাল রাস্তা সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে থাকেন। যাতে সকল বিধায়ক সহজে তাঁদের এলাকার খারাপ রাস্তার অভিযোগ সহজেই পূর্তদপ্তরের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, তার জন্য বিধানসভাতেই একটি ‘ড্রপ বক্স’ বসানোর নির্দেশ দেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সোমবার পর্যন্ত তাতে কোনও খারাপ রাস্তার অভিযোগ জমা পড়েনি বলেই সূত্রের খবর। যে পাঁচটি অভিযোগ জমা পড়েছে তার প্রত্যেকটিই নতুন রাস্তা তৈরি করার ‘পরামর্শ’ সংক্রান্ত। প্রসঙ্গত, এর আগেও বিধানসভায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তখনও মাত্র একজন বিধায়ক ছাড়া কেউই কোনও অভিযোগ জমা দেননি। এবার ড্রপ বক্স বসানোর নির্দেশ দেওয়ার আগে সেই কথা বিধায়কদের স্মরণও করিয়ে দেন বিমানবাবু।
পূর্তদপ্তর ছাড়াও রাজ্যের একাধিক দপ্তর রাস্তা তৈরি করে থাকে। কিন্তু আম জনতা থেকে শুরু করে নেতা পর্যন্ত অনেকেরই প্রবণতা হল রাস্তার ব্যাপারে অভিযোগ সরাসরি পূর্তদপ্তরকেই জানানো। সেটা ফের একবার প্রমাণিত হল। সূত্রের খবর, পূর্তদপ্তরের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন নম্বরে ১২ জুন থেকে সোমবার পর্যন্ত, গত পাঁচদিনে যেসব অভিযোগ এসেছে তার মধ্যে ৩২টি অন্য দপ্তরের রাস্তা সংক্রান্ত। তার থেকেও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মোট ২৯৯টি অভিযোগের মধ্যে ২১৬টিই সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’। কিছু অভিযোগে ‘অশালীন’ কথা পর্যন্ত লিখে পাঠানো হয়েছে! মাত্র একজনেরই অভিযোগ যথার্থ। ওই অভিযোগ গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বসিরহাটের প্যারাডাইস থেকে ত্রিমোহিনী পর্যন্ত রাস্তাটি পূর্তদপ্তর মেরামত করে দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) পাইপ বসাতে গিয়েই রাস্তাটি খারাপ হয়ে গিয়েছিল।