


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: বাঙালি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে আজও জুড়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ। গান, কবিতা, নাটক, গল্প— যাঁর যখন যা প্রয়োজন, তা তিনি ঠিক পেয়ে যান রবীন্দ্রনাথের কোনও না কোনও সৃষ্টিতে। এর মধ্যে বিশ্বজনীনতায় এগিয়ে সম্ভবত রবীন্দ্রসঙ্গীতই। এবার প্রসূতিদের প্রসব যন্ত্রণা লাঘবে চিকিৎসকরা আশ্রয় নিলেন সেই রবীন্দ্রসঙ্গীতের কাছেই।
মা ও শিশু চিকিৎসায় রাজ্যের উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে একের পর এক ‘বিপ্লব’-এর চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতিথযশা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুণ সিং। তাঁর উদ্যোগে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের লেবার রুমে সারাক্ষণ মৃদু আওয়াজে বেজে চলেছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। কখনও ‘চরণ ধরিতে দিও গো আমারে’, কখনও আবার ‘ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা প্রভু তোমার পানে’।
মা ও শিশুর চিকিৎসায় গুণগত মান দেখার সর্বোচ্চ সরকারি মানদণ্ড এখন ‘লক্ষ্য’ শংসাপত্র। সেই শংসাপত্র অর্জনের জন্য বলা হয়েছে, সুনিশ্চিত করতে হবে ‘রেসপেক্টফুল ম্যাটারনিটি কেয়ার’। যেখানে মায়ের সম্ভ্রম রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই মহকুমা হাসপাতালে সেজন্য লেবার রুমে বসেছে কাচের কিউবিকল। বড় ঘরে পাশাপাশি শয্যায় প্রত্যেক মা পাশের আর এক মাকে যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় দেখবেন, তাঁর চিৎকার কানে আসবে— এসব এখন অতীত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ মুক্তিসাধন মাইতি ও জেলার মা ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক ডাঃ স্বাতী প্রামাণিক বলেন, সবুজ পর্দা নয়, আমাদের মাতৃমার লেবার রুমে চারটি বেডকে আলাদা আলাদা ঘষা কাচের কিউবিকলে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রসব অনেক স্বস্তিদায়ক হচ্ছে মায়েদের পক্ষে। সঙ্গে মন শান্ত করা রবীন্দ্রসঙ্গীতও আরাম দিচ্ছে তাঁদের।
প্রসঙ্গত, সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই নাড়ি না কেটে প্লাসেন্টা বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং প্রসবের পর প্রায় ৪৫ মিনিট শিশুকে মায়ের স্পর্শে রাখার পদ্ধতি রাজ্যের যে সব হাসপাতালে শুরু হয়েছে, তার অন্যতম গল এই ক্যানিং হাসপাতাল। বর্তমানে এই লেবার রুমে মায়েদের শুইয়ে না রেখে করিডরে ঝুলন্ত মইয়ের সাহায্যে হাঁটানো হয়, প্রসবকে সহজ করতে বারথিং বলের সাহায্যে এক্সারসাইজও করানো হচ্ছে। ফল মিলছে হাতেনাতে। ৩রা জুন থেকে এখনও অবধি জন্মের সময় নাড়ি না কেটে মোট ২৩৭টি প্রসব করানো হয়েছে। নবজাতকদের কারও কোনও সমস্যা হয়নি। কাউকে এসএনসিইউতে পাঠাতে হয়নি।
পিজি হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ নারায়ণ জানা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সঙ্গীত মন শান্ত করে। লেবার রুমে মিউজিক থেরাপির উদ্যোগ বেশ ভালো। রোগীর সম্ভ্রম যাতে রক্ষিত হয়, সেদিকে আমাদের প্রত্যেকের খেয়াল থাকে। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে, কী প্রচণ্ড রোগীর চাপের মধ্যে প্রত্যেক চিকিৎসককে কাজ করতে হয়।