


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রামকৃষ্ণদেবের স্মৃতি বিজড়িত বাগবাজারের পুঁটে সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি ও কাশীপুর দশমহাবিদ্যা মন্দিরে কালীপুজোর রাতে নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিতা হন মা। সাধক পরমানন্দ দেবশর্মা প্রতিষ্ঠিত পুঁটে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে মাকে প্রণাম করতে মাঝে মধ্যে আসতেন রামকৃষ্ণদেব। জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণদেব জলপথে দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার সময় এখানে এসে মাকে প্রণাম করতেন। বাগবাজারের ভক্তদের বাড়িতে যাতায়াতের সময় সাধারণত তিনি রামকান্ত বসু স্ট্রিট ব্যবহার করতেন এবং প্রতিবারই দেবীকে প্রণাম করতে এই বাড়িতে আসতেন। কলকাতার বলরাম মন্দির সংলগ্ন রামকান্ত বসু স্ট্রিটে ঢুকে কিছুতে এগলেই ডানদিকে পড়বে এই কালীবাড়ি।
দশমহাবিদ্যা মন্দিরটি রয়েছে কাশীপুর শ্মশান সংলগ্ন চন্দ্রকুমার রায় লেনে। এই মন্দিরে দশমহাবিদ্যা মূর্তি প্রতিষ্ঠিত আছে। মথুরবাবুকে সঙ্গে নিয়ে রামকৃষ্ণদেব এই দেবালয় দর্শন করতে আসতেন। রামকৃষ্ণ গবেষক নির্মলকুমার রায়ের লেখা ‘চরণ চিহ্ন ধরে’ বই থেকে জানা যায়, এই ঠাকুরবাড়িতে মথুরবাবুকে বলে রামকৃষ্ণদেব মায়ের ভোগের জন্য মাসে দু’মন চাল ও দু’টাকার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন।
উত্তর কলকাতার এই প্রাচীন মন্দির দু’টি ছাড়াও বরানগরে প্রামাণিক ঘাট রোড সংলগ্ন কালীনাথ মুন্সি লেনে মুখোপাধ্যায় পরিবারের প্রাচীন মাতৃ দেবতার নাম ‘বড়মা’। এই বাড়িতে মা পুজোর দিন স্বয়ং এসে হাজির হন বলে আজও এই পরিবারের বিশ্বাস। মায়ের রূপ এখানে ভয়ংকরী। ওই বাড়ির তরফে সোমা মুখোপাধ্যায় বলেন, কালীপুজোয় মাকে রীতি মেনে কোলে বসিয়ে আদর করে বেনারসী পরানো হয়। একবার কালীপুজোর দিন মাকে বেনারসী পরানোর সময় কোলে তোলা হয়নি। সেবার বহু চেষ্টা করেও ঠিক মতো শাড়ি পরানো যাচ্ছিল না। শেষে মাকে কোলে তুলে আদর করতেই নিমেষে শাড়ি পরানো গিয়েছিল। এই বাড়ির পুজোয় মাকে নানা উপাচারে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই তালিকায় থাকে খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, আলুর দম, তরকারি, চাটনি ফলমূল ইত্যাদি।
বরানগর নরসিংহ প্রসাদ দত্ত রোডে বাম তারা সেবাশ্রমে ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে কালীর আরাধনা হয়ে থাকে। মন্দিরে তারা মায়ের মূর্তি থাকলেও কালীপুজোতে শ্যামা মায়ের মূর্তি এনে এখানে পুজো করা হয়। এই পুজোকে ঘিরে এই মন্দিরে বহু ভক্ত সমাগম হয়ে। পুজো উপলক্ষ্যে ভক্তিমূলক গানের আসর বসে।