


লখনউ ও মুজাফ্ফরনগর: হিন্দুদের কাঁওয়ার যাত্রা ঘিরে উত্তরপ্রদেশে বিতর্ক তুঙ্গে। যাত্রার রুট বরাবর সব দোকানে লাইসেন্স ও নেমপ্লেট ঝোলানো বাধ্যতামূলক করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য, দোকানের মালিকের প্রকৃত নাম ও পরিচয় সকলের গোচরে আনা। বিরোধীদের অভিযোগ, বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি। কাঁওয়ার যাত্রা চলাকালীন খাবার-দাবার কেনার সময় দোকানের মালিক হিন্দু না মুসলিম, সেটা চিহ্নিত করে দিতেই রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ। যদিও বিরোধীদের অভিযোগে গুরুত্ব না দিয়ে উত্তরপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের বক্তব্য, ‘কার কাছ থেকে খাদ্যদ্রব্য কিনছেন, ক্রেতার তা জানার অধিকার রয়েছে। সমাজবাদী পার্টি সহ বিরোধীরা সব সময়ই তোষণের রাজনীতি করে। কিন্তু পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমরা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখব।’
কাঁওয়ার যাত্রার চলার মধ্যেই একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, মুজাফ্ফরনগরে ৫৮ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি ধাবায় এক মুসলিম কর্মী হিন্দু নাম ব্যবহার করে কাজ করছিলেন। ওই হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা প্যান্ট খুলে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করেন। ওই কর্মীকে মারধরও করা হয়। যদিও এবিষয়ে বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই সেই সংগঠনটির। উল্টে তাদের এক সদস্যের দাবি, ‘এই দেশ ধর্মনিরপেক্ষ নয়। ভারত সনাতন ধর্মের ভূমি।’
মুজাফ্ফরনগরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ানোর মধ্যেই কাঁওয়ার যাত্রার রুটে সব দোকানির পরিচিতি যাচাইয়ে প্রকৃত লাইসেন্স ঝোলানো বাধ্যতামূলক করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই পদক্ষেপের সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মহম্মদের তোপ, ‘না আছে উন্নয়ন, না আছে কর্মসংস্থান। তাই এসব ঘটছে। মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতে হবে তো! কোনটা হিন্দুর দোকান, কোনটা মুসলিমের— ফের তা চিহ্নিতকরণ শুরু করেছে। এসব কোনওভাবেই চলতে দেওয়া উচিত নয়।’ সরব হয়েছেন এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও। তিনি বলেন, ‘মুজাফ্ফরনগর বাইপাসের কাছে অনেক হোটেল রয়েছে। বহু বছর ধরেই এগুলি চালু রয়েছে। ১০ বছর আগে কি কাঁওয়ার যাত্রা হয়নি? শন্তিপূর্ণভাবেই হতো। কোনও অশান্তি ছিল না। কিন্তু এখন কেন এসব হচ্ছে? ওরা এখন হোটেল মালিকদের আধার কার্ড দেখতে চাইছি। দোকানদের জোর করে প্যান্ট খুলিয়ে পরিচিতি যাচাই করছে।’