


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর্থিক নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠক শেষে আগামীকাল শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) নয়া রেপো রেট ঘোষণা করার কথা। এবার তারা রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখবে বলেই মনে করছে স্টেট ব্যাংক (এসবিআই)। তারা দাবি করেছে, বর্তমানে যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তাতে রেপো রেটে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। প্রসঙ্গত, রেপো রেটের ওঠানামার উপর অনেকটাই নির্ভর করে ব্যাংকগুলির আমানত ও ঋণের উপর সুদের হার।
দীর্ঘ সময় ধরে রেপো রেট ৬.৫ শতাংশে আটকে রাখার পর, ২০২৫ সালে ধাপে ধাপে তা কমাতে থাকে আরবিআই। গত ডিসেম্বরে শেষবার কমানো হয় রেপো রেট। বর্তমানে তা ৫.২৫ শতাংশ। কেন রেট না কমানের পূর্বাভাস দিচ্ছে এসবিআই? তাদের বক্তব্য, চলতি মাসে ভারতের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলির যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, তা আশাব্যাঞ্জক। অন্যদিকে আমেরিকা ভারতের উপর শুল্কের বোঝা ৫০ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে এসেছে। এর ফলে এশীয় দেশগুলির মধ্যে মার্কিন শুল্কের চাপ ভারতের অনেকটাই কম। ফলে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানির হার প্রতিযোগিতার বাজারে বাড়তে চলেছে। অন্যদিকে সোনা, রুপোসহ সবরকমের ধাতুর দাম আবারও বাড়ছে। আবার আমেরিকায় যেভাবে কাজের বাজার তুলনামূলকভাবে ছোটো হয়েছে, সে-দেশের নাগরিকদের খরচযোগ্য আয় যেভাবে থমকে যাওয়ার রিপোর্ট সামনে এসেছে, তাতে আমেরিকা সুদের হার আগামীদিনে কমাতে চলেছে বলেই পূর্বাভাস রয়েছে বিশ্বজুড়ে। মার্কিন ডলারের নিরিখে টাকার দাম গত এপ্রিল থেকে ৫.৮ শতাংশ পড়েছে। কিন্তু ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তির পর টাকার দাম আবারো বাড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি চলতি মাসে ০.২০ থেকে ০.৩০ শতাংশ চড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এসবিআইয়ের দাবি, অতি সাম্প্রতিককালে ভারতীয় অর্থনীতির পালে হাওয়া লাগার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে টালমাটাল পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে আরবিআই রেপো রেটে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেপো রেটের মাধ্যমে সুদের হার কমানোর চাপ আসে তখনই, যখন শিল্পক্ষেত্রে পরিস্থিতি কঠিন হয়। কম সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসার পথ সহজ করতে রেপো রেট কমানোর পথে হাঁটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি সুদের হার কমিয়ে বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগও করে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তিগুলি ভারতীয় পণ্যের বাজার তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই রেপো রেটে বদল না-হওয়ারই সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।