


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। পূর্ব ভারতে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির মধ্যে এই প্রথম রোবট এল পিজিতে। সাড়ে ৬ কোটি টাকা দামের রোবটের যন্ত্রাংশগুলি ধাপে ধাপে আসতে শুরু করেছে এই হাসপাতালে। বসবে নতুন আউটডোর বাড়ির পাঁচতলার রোবটিক সার্জারি অপারেশন থিয়েটারে। ইনস্টলেশনের কাজ সম্পূর্ণ হলে, চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে এ বছরেই পুরোদমে রোবটিক সার্জারি শুরু হয়ে যাবে। এমনটাই আশা পিজি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের। তারা জানিয়েছে, রোবটের দাম, রোবটিক সার্জারির অপারেশন থিয়েটার সহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি এবং পূর্তদপ্তরের সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের খরচ ধরলে এই বাবদ মোট ব্যয় আট কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এখানে রোবটিক সার্জারি চালু হলে সাধারণ মানুষ আধুনিকতম চিকিৎসা পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
প্রসঙ্গত, পিজি’তে রোবট আসার পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। ২০১৮-’১৯ সাল থেকে রোবটের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার শুরু করেন এখানকার চিকিৎসকরা। হাসপাতাল তথা কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন পাঠিয়ে দেয় স্বাস্থ্যভবনে। তারপর থেকে বহুবার রোবটের সপক্ষে যুক্তি দিতে হয়েছে হাসপাতালকে। এখানকার এক কর্তা বলেন, পিজিতে আসা রোবট রাজ্যের প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালগুলির রোবটের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
ঠিক হয়েছে, আপাতত এখানকার তিন বিভাগের চিকিৎসকরা রোবটিক সার্জারি করবেন। সেগুলি হল জেনারেল সার্জারি, গাইনি ও ইউরোলজি। তিন বিভাগের ছ’জন চিকিৎসককে রোবটের নির্মাতা সংস্থা ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ডেমো অপারেশনও করেছেন তাঁরা। ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে নার্সিং স্টাফ এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদেরও।
শুধু সিনিয়ররা নন, রোবট আসায় উচ্ছ্বসিত পিজি’র তরুণ সার্জনরাও। এখানকার জেনারেল সার্জারির সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সিরাজ আহমেদ বলেন, চেস্ট, পেলভিক (কোমর ও আনুষঙ্গিক অংশ), কিডনির পিছনের অংশে অপারেশন করতে হলে সার্জনের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। ওইসব অংশে সেলাই দিতেও সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে রোবটের গুরুত্ব অপরিসীম। সবচেয়ে বড় কথা, বড় বড় কর্পোরেট হাসপাতালে যে অস্ত্রোপচারে খরচ কয়েক লক্ষ টাকা, এখানে সেই রোবটিক সার্জারি হবে বিনামূল্যে। পিজি’র ইউরোলজি’র প্রধান ডাঃ দেবাংশু সরকার বলেন, রোবটিক সার্জারি কর. রোগীকে হাসপাতালে কম দিন থাকতে হবে, রক্তপাত কম হবে। অপারেশনও নিখুঁত হবে। পিজিতে রোবট আসায় দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি হাসপাতাল গোষ্ঠীর মুকুন্দপুরের এক রোবটিক ইউরোসার্জন ডাঃ সত্যদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, বাংলার সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হল। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি চলে এল গরিব, নিম্নবিত্তদের হাতের মুঠোয়। অভিনন্দন পিজিকে।