


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ভিড় বাসে গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই বিপত্তি! দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা এক যুবক আচমকা লক্ষ করলেন মানিব্যাগ হাপিস। নগদ বিশেষ ছিল না। কিন্তু, দু’টি ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ও একটা ক্রেডিট কার্ডও রয়েছে তাতে। তাড়াতাড়ি সেগুলি ব্লক করতে হবে, নাহলেই বিপদ। সেই কারণে তড়িঘড়ি ইন্টারনেট ঘেঁটে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার নম্বর খুঁজতে শুরু করে ওই যুবক। সহজেই পেয়ে যান একটি টোল ফ্রি নম্বর। ফোন করতেই যাবতীয় তথ্য নেন ‘ব্যাংক আধিকারিক’। কিছুক্ষণ পরেই মেসেজ। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই গায়েব ৪৫ হাজার টাকা!
লালবাজারের সাইবার থানায় এমনই বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু কলকাতা নয়, ইন্টারনেট থেকে ব্যাংক কিংবা কোনও আর্থিক সংস্থার কাস্টমার কেয়ারের নম্বর খুঁজতে গিয়ে দেশজুড়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে রক্ষার পথ বাতলে দিতে নয়া উদ্যোগ নিল যোগাযোগ মন্ত্রকের অধীন ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন। তাদের ‘সঞ্চার সাথী’ ওয়েবসাইট এবং অ্যাপেই মিলবে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থার যাবতীয় তথ্য। ফলে সেখানে যোগাযোগ হবে একেবারে নিরাপদ। আর্থিক প্রতারণা এড়াতে সুবিশাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে মন্ত্রক। সেখান থেকেই আম জনতা পেয়ে যাবে ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলির আসল টোল ফ্রি নম্বর, ওয়েবসাইট, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও ইমেল আইডি। সেগুলিতে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ বা অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে থাকবে না প্রতারণার ভয়। শুধু তা-ই নয়, একইসঙ্গে ‘ব্যাংক আধিকারিক’ পরিচয়ে আপনার কাছে কোনও ফোন বা মেসেজ বা ইমেল এলেও রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়াতে পারে ‘সঞ্চার সাথী’ পোর্টাল এবং অ্যাপ। যে নম্বর থেকে ফোন বা মেসেজ কিংবা ইমেল আসছে, সেটি অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে পারবেন গ্রাহক নিজেই।
কীভাবে করা যাবে এই যাচাই প্রক্রিয়া? মন্ত্রক সূত্রে খবর, ‘সঞ্চার সাথী’ ওয়েবসাইট বা অ্যাপ খুলে ঢুকতে হবে ‘সিটিজেন সেন্ট্রিক সার্ভিসেস’ বিভাগে। ওই বিভাগের মধ্যেই রয়েছে ‘ট্রাস্টেড কনট্যাক্ট ডিটেলস’ বা বিশ্বাসযোগ্য নম্বরগুলি। সেখানে ক্লিক করলে খুলবে নতুন পেজ। ‘সার্চ’ অপশনে ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থার নাম লিখলেই হাতের নাগালে যাবতীয় তথ্য। উদাহরণস্বরূপ, ডাক বিভাগের আওতায় থাকা ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাংকের তথ্য জানতে ‘সার্চ’ করতে হবে। মিলবে বৈধ ওয়েবসাইট (https://ippbonline.com/) ও টোল ফ্রি নম্বর ১৮০০৮৮৯৯৮৬০। এপ্রসঙ্গে, রাজ্য পুলিসের সাইবার বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ইন্টারনেট ঘেঁটে পাওয়া ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করে প্রতি মাসে প্রতারণার শিকার হন প্রায় হাজার খানেক মানুষ। এই নম্বর যাচাই প্রক্রিয়ায় তা রোখা সম্ভব হবে।