


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা না দার্জিলিং বোঝা দায়! বোঝা মুশকিল গড়িয়া নাকি গ্যাংটক! যেভাবে কাঁপুনি দেওয়া ঠান্ডা পড়েছে, যেভাবে তাপমাত্রার পারদ ১২-১৩ ডিগ্রির আরামদায়ক শীত থেকে ৯-১০ ডিগ্রির (কোথাও কোথায় আবার ‘ফিলস লাইক’ ৭-৮ ডিগ্রি) অস্বস্তিতে নেমে এসেছে, তাতে সব গোলমাল হতে বাধ্য! প্রমাদ গুনছেন চিকিৎসকরা। কারণ, ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা যেমন শরীরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, ১০ ডিগ্রি বা তার নীচের তাপমাত্রাও জটিল করে তুলতে পারে পরিস্থিতি। বিশেষত, খুদে এবং বয়স্কদের এই সময়টা অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, হাঁফের টান বা অ্যাজমা-অ্যালার্জি থাকলে, খুদেদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা নিতে হবে। আর আগে থেকে হাইপ্রেশারের সমস্যা থাকলে বয়স্কদের ব্যাপারে থাকতে হবে অত্যন্ত সাবধান। কারণ, শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় রক্তবাহী নালিগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। বেড়ে যায় ব্লাড প্রেশার। তাই প্রতি বছরই শীতের সময়ে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং মেডিকেল কলেজের বিভাগীয়
প্রধান ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ বলেন, ‘প্রেশারের ওষুধ চললে ভুলেও বন্ধ করবেন না। বরং নিজের ফিজিশিয়ানের সঙ্গে দেখা করে ওষুধের ডোজটা অ্যাডজাস্ট করে নিন। তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক বাড়বে। বিশেষত রাতে ঘুমের মধ্যে অ্যাটাক হতে পারে।’ বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘শুধু প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়াই নয়, পরিবেশ দূষণের সহনমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে অনেকটাই। একিউআই অধিকাংশ সময় ২০০র বেশি থাকছে। তাই বড়দের বলব, ভোরে হাঁটার অভ্যাস থাকলে কিছুদিন বিরতি দিন বা অন্য সময়ে হাঁটুন। সঙ্গে ছোটোদের একেবারেই নেবেন না। এতটাই ঠান্ডা এখন, প্রাইমারি বা প্রি প্রাইমারি স্কুলগুলির সময় পরিবর্তন করা উচিত। বাচ্চাদের সাধারণ ভাইরাল অসুখবিসুখ থেকে নিউমোনিয়া—যে কোনও দিক থেকে বিপদ আসতে পারে। একান্তই বেরতে হলে সোয়েটার, চাদর মুড়ে বেরোন। বিশেষত কান, গলা, মাথা ঢাকা দেওয়া খুব জরুরি।’ চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, শুধু তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়াটাই উদ্বেগের নয়। সঙ্গে আবার হু হু করে ঠান্ডা হাওয়া বইছে। ডাঃ ঘোষ বলেন, ‘এই সময় গার্গল করলে গলা আরাম পাবে। পর্যাপ্ত জলপানও জরুরি। তাতে শরীর আর্দ্র থাকে।’