


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এমএসএমই (ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প) সেক্টরই ভারতের শিল্প অর্থনীতির মেরুদণ্ড! একথা বারবার জানিয়েছে মোদি সরকার। এই সেক্টরকে নানাবিধ আর্থিক প্যাকেজ ও সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছে। অথচ তথ্য পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, খোদ কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির কাছে এমএসএমই সেক্টরের বকেয়া ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি! অর্থাৎ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি থেকে যে পরিমাণ পণ্য, উপকরণ, পরিষেবা, যন্ত্রাংশ ক্রয় করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলি, সেই টাকা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর মেটানো হয়নি। আবার বেসরকারি কোম্পানিগুলির কাছে দেশের এমএসএমই সেক্টর পাবে ৭ লক্ষ কোটি টাকা। বেসরকারি সংস্থার কাছে যখন এমএসএমই সেক্টরের বকেয়া ৪৫ দিনের বেশি রয়ে গেলেই সংস্থাটি ওই টাকায় কোনো ট্যাক্স ছাড় যাতে না পায়, আইনে সেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে এরকম কঠোর বন্দোবস্ত নেই।
যএমএসএমই সেক্টর এবং বণিকসভাগুলির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছে— অবিলম্বে বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা করা হোক। ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া মেটানোর ঘোষিত নীতি থাকলেও সেটি অনুসরণ করা হচ্ছে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি আবেদনে এও জানিয়েছে, ‘বকেয়া টাকা আটকে থাকায় আমরা যে সব আর্থিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি, তাদের ঋণ পরিশোধ করতে দেরি হয়। আবার যে বৃহৎ সংস্থার থেকে উপকরণ ও কাঁচামাল ক্রয় করে পণ্য বানিয়ে সাপ্লাই করেছি, তাদেরও টাকা মেটাতে পারছি না। আর তার জেরে সেইসব বৃহৎ সংস্থা, ব্যাঙ্ক, আর্থিক সংস্থাগুলি নতুন করে এমএসএমই সেক্টরকে ঋণ দিচ্ছে না। অর্থাৎ বকেয়া থেকে যাওয়ার একটি চেইন সৃষ্টি হয়েছে। আর তার জেরে উৎপাদন স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারের কাছে এই সেক্টরে আরজি, কেন্দ্রীয় সরকরি সংস্থা যদি দ্রুত বকেয়া না মেটায়, তাহলে বেসরকারি সংস্থা সরকারের চাপ মানবে কেন? তারা বলছে, খোদ সরকারই তো বকেয়া মেটায় না। তাই আমরা কেন বেশি সময় পাব না। আর এই কারণে সবথেকে সংকটে এমএসএমই সেক্টর।