


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পরিবেশ আবর্জনা মুক্ত রাখতে প্রতি পঞ্চায়েত এলাকায় যাতে একটি করে কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিট হয় তার নির্দেশ দিয়েছিল পঞ্চায়েত দপ্তর। কিন্তু এখনও রাজ্যের প্রায় ৪৫০ পঞ্চায়েতে এই প্রকল্প গড়ে তোলা যায়নি বলে খবর। মূলত জমির সমস্যার কারণেই এই পরিস্থিতি বলে জানা গিয়েছে। যদিও দপ্তর বারেবারে সংশ্লিষ্ট জেলার আধিকারিকদের এই ব্যাপারে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়া এবং কিছুদিন বাদে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেই আর সেভাবে সরকারি কাজ হবে না। তাই যেখানে এখনো এই কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিট তৈরি করা সম্ভব হয়নি সেখানে কী হবে, সেটাই বড় প্রশ্নের। দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের ৩৩৪০টি পঞ্চায়েতেই বর্জ প্রক্রিয়াকরণ করার ইউনিট চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে ভালোই প্রগতি হয়। পরপর বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় এই প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু বিগত প্রায় এক বছর ধরে অনেক জেলাতেই কাজের গতি ঝিমিয়ে পড়ে। মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ সহ একাধিক জেলায় বহু পঞ্চায়েত বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র তৈরি করতে উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। কারণ হিসেবে দপ্তরের কাছে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে অনেকেই জমির অভাব বলে জানিয়েছে। কোথাও আবার পরিবেশ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা আছে। যেমন সোনারপুর ব্লকের খেয়াদহ ১,২ পঞ্চায়েত এলাকার বেশিরভাগটাই জলাভূমি। তাই সেখানে নির্মাণ করতে গেলে ওয়েটল্যাণ্ড অথরিটির অনুমতি লাগবে। সেটা না মেলায় এই কাজ থমকে।
এদিকে, বিডিওদের এই ব্যাপারে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দপ্তর। ব্লক থেকে প্রধানদের জমি খোঁজার কাজ দেওয়া হলেও তাঁরা খুব একটা গা করেনি বলেই অভিযোগ। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রক চেয়েছিল, প্রতি গ্রামে কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিট হোক। কিন্তু এই রাজ্যে সেটা এক প্রকার অসম্ভব। তবে পঞ্চায়েত পিছু একটি এমন প্রকল্প করার উপর জোর দেওয়া হয়। যেখানে এই ইউনিট করা যাচ্ছিল না, সেখানে অন্য একটি পঞ্চায়েতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছিল। ফলে একটি পঞ্চায়েতের আবর্জনা আরেকটি পঞ্চায়েতের কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিটে ফেলা হচ্ছিল। কিন্তু যেখানে এখনো কোনো ইউনিট স্থাপন করা গেল না, সেখানে আদৌ এই কাজ হবে কিনা সে ব্যাপারেও কোনো নিশ্চয়তা নেই।